সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির নিজস্ব জমিতে অবিলম্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শাহজাদপুর পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর সামনের বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা এদিনের মতো অবরোধ তুলে নেন। তারা আবারও আজ বুধবার সকাল থেকে তাদের আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবেন বলে ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ অন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেন। এ অবরোধ চলাকালে শাহজাদপুর শহরের সবগুলো অভ্যন্তরীণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় পাবনা-ঢাকার মধ্যে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশিন মাইসা, হৃদয় সরকার, শামীম হাসান, হাবিব, জাকারিয়া, বায়জিদ, স্বপন, জাহিদ, সমুদ্র, মেহেদী, মমিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স ৮ বছর পার হলেও এখনো বিভিন্ন স্থানে ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক কাজ ও অ্যাকাডেমিক পাঠদান চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ও নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর অধ্যয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এত পরিমাণ শিক্ষার্থীর জন্য নেই স্থায়ী ক্যাম্পাস। এর আগের ২ জন ভিসি নানা জটিলতায় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটসহ প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ থেকে তারা পরিত্রাণ পেতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব জটিলতা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আবাসন নির্মাণের দাবি জানান। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আবাসন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনটি যৌক্তিক আন্দোলন। তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে ও করেই যাচ্ছে অথচ এখনো ক্যাম্পাস ও নিজস্ব ভবন নির্মাণ হয়নি। জায়গাটা অধিগ্রহণ করা আছে। এই মুহূর্তে আমরা যাদি কাজ করতে চাই তবে করা যাবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রশাসন সরকারের কাছে সংশোধিত জিপিপি জমা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কাজ করছে। তারা এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে মিটিং আছে। এ মিটিংয়ে যদি অনুমোদন হয় তবে আমরা আশা করি এ বছরের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে।