বৈষম্য নিরসনে পল্লীবিদ্যুতের ৩০ হাজার কর্মীর স্মারকলিপি

অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন ও চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই আন্দোলন করছেন সারা দেশের পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মীরা। এই অবস্থায় গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টার কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি দেন পবিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে থাকা ৮০টি পবিসে ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩০ হাজার ১৭৭ জন ওই স্মারকলিপিতে সই করেছেন।

এদিকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর আরইবি শীর্ষ কর্মকর্তারা পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে চাকরিচ্যুতি ও মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া হয়রানিমূলক বদলি করারও অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে আরইবি ও পবিসের কাঠামো পর্যালোচনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে তা নিয়েও সংশয় পোষণ করেছেন সমিতির কর্মীরা।

সারা দেশের পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিগত সরকারের আমল থেকে আন্দোলন শুরু করলেও অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বছরের অক্টোবরে চরম আকার ধারণ করে। এ সময় আরইবি এলাকায় একাধিক জেলায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে কঠোর অবস্থানে যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরইবি। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত, তাৎক্ষণিক বদলি ও মামলা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তবে আরইবি ও পবিসির মধ্যে এখনো দ্বন্দ্ব মেটেনি।

বিদ্যুৎ উপদেষ্টাকে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত বছরের জানুয়ারি থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি, দ্বৈতনীতি, শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রেরণ, গণস্বাক্ষর গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা চালু রেখে কর্মবিরতিসহ শান্তিপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আরইবি কর্তৃক নিম্নমানের মালামাল ক্রয়ের কারণে সৃষ্ট গ্রাহক ভোগান্তি এবং আরইবির বিগত সময়ের বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও আরইবি গত বছরের ১৬ অক্টোবর সমিতির ১০ জন কর্মকর্তাকে কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়াই চাকরিচ্যুত এবং একই তারিখ রাতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। পরের দিন ১৭ অক্টোবর সকাল থেকে বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধরপাকড় ও বেধড়ক মারধরসহ আরও ১৪ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত এবং ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে দেওয়া হয়। পৃথক তিন মামলায় ১৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রায় ২০ জন কর্মকর্তাকে কারাবন্দি, স্ট্যান্ড রিলিজ ও ওএসডি করা হয় আরও প্রায় অর্ধশতাধিক।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আরইবি চেয়ারম্যান বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে সশরীরে মতবিনিময়কালে বিদ্যমান পরিস্থিতি সাময়িক এবং চাকরিচ্যুত ও কারাবন্দি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আগের মতো একত্রে কাজ করার বিষয়ে সমিতির কর্মীদের আশ্বস্ত করেন। পরে সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনার অনুরোধ করা হলেও কোনোরূপ সাড়া মেলেনি বরং চাকরিচ্যুতদের চাকরি পুনর্বহালের আপিল আবেদনটি গত ৭ জানুয়ারি চিঠি দিয়ে নাকচ করে দেওয়া হয়।