অবশেষে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বদলি হয়েছেন। তাকে সম পদমর্যাদায় সহকারী পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সহকারী পরিচালক ড. বিলকিস বেগমের সাক্ষরিত প্রঞ্জাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ৩০ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে ‘পান থেকে চুন খসলেই ঘুষ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ দিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরদিন ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয় গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত তদন্ত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অমিত চক্রবর্তী। তদন্ত চলাকালে শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলার সামনেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরও এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরিচালক (উপবৃত্তি) মীর্জা মো. হাসান খসরু বুধবার তদন্ত করতে হবিগঞ্জ আসেন। তদন্ত অনুষ্ঠান নিয়েও চলে দিনভর নাটক।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ তাদের তদন্তের ব্যাপারে লিখিত বা মৌখিকভাবে পূর্বে জানানো হয়নি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে আনা হয়েছে শুধু তার (গোলাম মাওলার) পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা জানান, তাদের বলা হয়েছে অফিসে জরুরি একটা মিটিং আছে। এখানে আসার পর শিক্ষক নেতা সুভাষ আচার্য, আবুল কালাম আজাদ, স্বপ্না আক্তার বলেন, ডিপিইও স্যারের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে আমরা যেন তার পক্ষে বক্তব্য দেই।
আরো কয়েকজন শিক্ষকের সাথে আলাপ করে জানা যায় একই কায়দায় ডিপিইও অফিস থেকে মোবাইল করা হয়। স্কুলের ক্লাস ফেলে তাদের অফিসে ডেকে আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর্জা মো. হাসান খসরুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলাকে আগেভাগেই জানিয়ে ছিলাম সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও অভিযোগকারী শিক্ষকসহ ২/১ জন শিক্ষককে তদন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করতে। কিন্তু তিনি এসব না করে তার পক্ষের শিক্ষকদের জমায়েত করেছেন। আমি এখানে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। আরো কয়েকজন শিক্ষককে আমার ইমেইলে লিখিত বক্তব্য পাঠানোর জন্য বলে দিয়েছি।