স্কুলের ইট পাচারের চেষ্টা আওয়ামী লীগ নেতার

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইট পাচারের সময় আটক করেছে এলাকাবাসী।

গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী রাশেদুর রহমান রাশেদ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে প্রায় ২০ হাজার ইট ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তা আটকে দেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে কিশোরীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন সীমানা প্রাচীর ভেঙে ইটগুলো বিদ্যালয়ের মাঠেই স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।

গত রবিবার গোপনে সেখান থেকে কয়েক হাজার ইট ট্রলিতে তুলে নিয়ে যান রাশেদ। গতকাল সকালে আবার বিদ্যালয়ের মাঠের স্তূপ থেকে ট্রলিতে ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ইটসহ ট্রলিটি আটকে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে সুযোগবুঝে সেখান থেকে সটকে পড়েন রাশেদ।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুর রহমান রাশেদের মোবাইল ফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে কিশোরীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমলেশ চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের পুরাতন বাউন্ডারি ওয়ালের ইট স্কুলের মাঠে রাখা ছিল। রাশেদ আমাকে বলে স্কুল থেকে ইট নিয়ে গেছে। ইট বাবদ পরে রাশেদ টাকা দিলে আমি বিদ্যালয়ের তহবিলে তা জমা করতাম। ইউএনও সাহেব বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ইট এনে সাজিয়ে রাখতে। পরে নিলামে বিক্রি করা হবে।’

এ ব্যাপারে কিশোরীগঞ্জের ইউএনও মৌসুমী হক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ইটগুলো স্কুলে এনে রাখতে বলি। যদি ইট বিক্রি করতে হয় তাহলে নিলামে বিক্রি করতে হবে। এভাবে কারও কাছে ইট দিতে পারে না তারা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত টিম গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’