দাবি আদায়ের ময়দান হয়ে উঠেছে ঢাকার রাজপথ। সরকারি-বেসরকারি, ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সব দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হচ্ছে রাজপথ অবরোধ করে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সড়ক অবরোধ করলে আন্দোলনের বার্তা অনেকের কাছে পৌঁছায়, যা দাবি আদায়কে সহজ করে। তবে আন্দোলনের কারণে নগরবাসীকে পড়তে হয় তীব্র ভোগান্তিতে। আন্দোলনে একটি সড়ক আটকা পড়লে এর প্রভাব পড়ে শহরের অলিগলিতেও। কর্মসূচি দীর্ঘ সময়ের হলে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো শহর।
গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সকাল থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকেন মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা। এই দুই আন্দোলন-অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দাবি পূরণে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভরত ম্যাটসের শিক্ষার্থীরা। আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুক আন্দোলনকারীরা। এরপর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। তবে গতকাল রাত ৯টার সময়ও তার প্রভাব ছিল ঢাকার সড়কগুলোতে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সারা দেশ থেকে আসা কয়েকশ ম্যাটস শিক্ষার্থী শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। অনতিবিলম্বে দশম গ্রেডে শূন্য পদে নিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নতুন পদ সৃজনসহ চার দফা দাবিতে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা। বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে যায়। সেখানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগে এসে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের পক্ষে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজকে সচিবালয়ে আলোচনায় উনারা আমাদের দাবি মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে আমাদের কাছে তারা একটু সময় চেয়েছেন। আমরা তাদের সাত দিনের সময় দিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরা সারা দেশ থেকে লংমার্চ করে ঢাকায় আসব।’
এদিকে গতকাল বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকেন মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা। দুই ঘণ্টা অবস্থান করার পর পুলিশ তাদের রাস্তার এক পাশে সরিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে যান। দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. রুহুল আমিন এবং দুই সদস্য উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা। আগামী মার্চের শেষে ফের মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে আশ্বাস দেন আসিফ নজরুল। উপদেষ্টার আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি মাইন উদ্দিন বাবু বৈঠক শেষে বলেন, আমরা উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, আমাদের কারও ম্যানপাওয়ার হয়েছে, কারও ভিসা হয়েছে, আবার কেউ কেউ টিকিটের জন্য যেতে পারেননি। উনি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন।
এ দুই আন্দোলনে শাহবাগ, বাংলা মোটর, মৎস্য ভবন, এলিফ্যান্ট রোড়, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মগবাজার, পল্টনসহ সব অলিগলিতে যানজটের সৃষ্টি হয়। মোড়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে হেঁটে শাহবাগ মোড়ে আসা কাউছার নামে এক ব্যক্তি বলেন, সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে মালিবাগ মোড়ে বাসে চলাচল করি। কোনো যানবাহন চলতে না দেখে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
শাহবাগ মোড়েই বড় দুটি হাসপাতাল। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হেঁটে শাহবাগ মোড় পার হতে দেখা যায়।
যানজটের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা কারওয়ান বাজার এবং পরে ইস্কাটন এলাকায় অবরোধ করে আন্দোলন করেন। ফলে নগরবাসীকে তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।