ফের আঁকা হলো সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি

গত ১৮ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুর লাল সন্ত্রাসসংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে একদল শিক্ষার্থী কর্তৃক মুছে ফেলা সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি আবার অঙ্কন করছেন বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত মঙ্গলবার রাতে ‘কমরেড সিরাজ সিকদার, লও লও লও সালাম’ সেøাগান দিয়ে এই গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি প্রসঙ্গে বিপ্লবী ছাত্র-মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি আঁকা হয়। সিরাজ সিকদার সবসময়ই পাকিস্তানি আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেছেন, পাশাপাশি ভারতীয় আধিপত্যবাদেরও বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সিরাজ সিকদারকে ক্রসফায়ার করে শেখ মুজিব হত্যা করে।’

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এই দেয়ালটায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে এখানে সিরাজ সিকদারের ছবি আঁকা হয়েছিল। কিন্তু একটি বিশেষ গ্রুপ বিক্ষোভের নাম করে এই ছবিটি মুছে ফেলে। কিন্তু এখন আবার সেই শিক্ষার্থীরা যারা আগে সিরাজ সিকদারের ছবিটি অঙ্কন করেছিল তারা আবার অঙ্কন করছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি নিশান আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যেই গ্রুপটা সবচেয়ে বেশি সর্বহারা শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে তাদের শ্রেণিকে রিপ্রেজেন্ট করে লড়াই করেছে, তার নেতৃত্ব দিয়েছেন কমরেড সিরাজ সিকদার। কিন্তু স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এই সিরাজ সিকদার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন শোষণমুক্ত না হবে, ততদিন এ দেশে সিরাজ সিকদারের লড়াই চলতে থাকবে। তার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই আমরা বিভিন্ন সময়ে তার গ্রাফিতিসহ স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণ করে আসছি।