যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজ্যটির রাজধানী আলবেনিতে গভর্নর অফিসে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবকে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিনেটর লুইস সেপুলভেদার উত্থাপিত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ২৩৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন। প্রস্তাবনাটি নিউ ইয়র্ক সিনেটের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, ১৪ এপ্রিল, অর্থাৎ বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখকে নিউ ইয়র্কে বাংলা নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। অঙ্গরাজ্যটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবং এ রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গভর্নর অফিস। বাংলা নববর্ষের ইতিহাস বর্ণনা করে এতে আরও বলা হয়, ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যে পয়লা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়ে থাকে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর অফিস বলেছে, বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের গৌরবময় সাফল্য এবং রাজ্যটিতে বসবাসরত বাঙালিদের অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যটি অভিবাসী অধ্যুষিত। দেশটির মোট অভিবাসীদের একটি বড় অংশ থাকেন নিউ ইয়র্ক সিটিসহ এই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে। রাজ্যটিতে বাংলাভাষী বহু মানুষের বাস। যুক্তরাষ্ট্রে যত বাঙালি বসবাস করেন, তাদের ৪০ শতাংশেরই বাস নিউ ইয়র্কে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রদেশে এক লাখেরও বেশি বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন। নিউ ইয়র্কে বাঙালিদের বসবাস মূলত ব্রুকলিন, কুইনস এবং ব্রঙ্কসে। ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকার একাংশকে স্থানীয়রা ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলে ডেকে থাকেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ নির্বাচনে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্যালট পেপারে ইংরেজির পাশাপাশি চারটি বিদেশি ভাষার মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল বাংলা। ভারতীয় উপমহাদেশের ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলাই প্রথম ছাপা হয় নিউ ইয়র্কের ব্যালট পেপারে।