পটিয়ায় নিখোঁজ যুবক, লাশ নিতে সৌদি থেকে ফোন

পটিয়া জিরি ইউনিয়নে নিজ কর্মস্থলে গিয়ে নিখোঁজ হন জুনায়েদ ইসলাম রাসেল (২৩)  নামের এক যুবক। পেশায় তিনি টেলিকম প্রতিষ্ঠান রবির এসআর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নানা জায়গায় খোঁজ করে না পাওয়ায় থানায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জুনায়েদ ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

জিডি পাওয়ার পর পুলিশ নিজেদের মতো কাজ শুরু করলেও পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা ফেসবুকসহ নানা জায়গায় তার খোঁজ পেতে পোস্ট করেন। এরই মধ্যে গতকাল ২৩ জানুয়ারি রাতে সৌদি আরবের একটি অচেনা নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় আজ শুক্রবার লাশ পাওয়া যাবে জুনায়েদের। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার।

নিখোঁজ জুনায়েদের চাচাতো ভাই কাওসার হিরো দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ভাই অনেকদিন থেকে রবিতে কাজ করে। অন্যদিনের মতো মঙ্গলবারও কাজে যায় কিন্তু এরপর আর বাসায় আসে নাই। আমরা ফোন দিলে সে ফোনও বন্ধ পাই। আশেপাশে নানা জায়গায় খোঁজ করে তার সন্ধান না পাওয়ায় পটিয়া থানায় জিডি করি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে তার খোঁজ চেয়ে পোস্ট করি।এরপর গতকাল রাত ১০ টায় সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে আমাদের ফোন করে বলা হয় জুনায়েদের লাশ পাওয়া যাবে প্রস্তুত থাকেন। এতে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। 

তিনি আরও বলেন, আজ সকালে অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, জুনায়েদের অবস্থা ভালো না তাকে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির আশেপাশে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। আমরা খোঁজ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হই। এর কিছুক্ষণ পর নম্বরটি বন্ধ থাকায় আমরা ধারণা করি এটি একটি ফেইক কল। পরে আমরা সকালেই তদন্ত কর্মকর্তাকে এবং ওসিকে জানাই। 

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিখোঁজের পর আমরা কাজ শুরু করেছি। যেসব অচেনা নম্বর থেকে কল দেয়া হচ্ছে পরিবারকে তারা ফ্রড। আমরা সিডিআর পর্যালোচনা করে এগোচ্ছি।  

নিখোঁজ ও লাশের ব্যাপারের হুমকি এসছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হলে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এবং সিডিআরের জন্য আবেদন করেছি, সিডিআর পেলে বিস্তারিত অবস্থান জানা যাবে। 

সৌদি থেকে ফোন করে লাশ নেয়ার ব্যাপারে পরিবারকে কল দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কাকে কল করেছে তা আমার জানা নাই। এলাকায় কেউ নিখোঁজ হলে আশেপাশের মানুষজন এরকম কাজ করে থাকে। আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখছি।