ব্যবসায় আট কাজ নিষেধ

সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত সর্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। সৃষ্টিজগতের সব ক্ষেত্রেই রয়েছে ইসলামের নির্দিষ্ট নীতিমালা। আয়-উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ব্যবসা সম্পর্কে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় নিষেধ করা হয়েছে। সেগুলো উল্লেখ করা হলো

ধোঁকা দেওয়া : ব্যবসায় প্রতারণা করা নিষেধ। একদা রাসুল (সা.) একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত প্রবেশ করে দেখলেন, খাদ্যগুলো ভেজা বা নিম্নমানের। রাসুল (সা.) বললেন, হে পণ্যের মালিক। এটা কী? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল। এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রাসুল (সা.) বললেন, তুমি এগুলো খাবারের স্তূপের ওপর রাখলে না কেন? তাহলে লোকেরা দেখতে পেত। যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়। (সহিহ মুসলিম)

ওজনে কমবেশি করা : ওজনে কমবেশি জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা পরিমাপে কম দেয়। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদের মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন ১-৩) রাসুল (সা.) বলেন, যখন কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা ওজনে বা মাপে কম দেয়, তখন শাস্তিস্বরূপ তাদের খাদ্যশস্য উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)

মিথ্যা শপথ করা : মিথ্যা ধ্বংস করে, নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়। মিথ্যাবাদীর ওপর রয়েছে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন হলো, যে তার ব্যবসায়িক পণ্যকে মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে। (সহিহ মুসলিম)

সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা : কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম একটি সুদ। এর পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন। আর সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা ২৭৫)

মোজাবানা করা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) মোজাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ বাগানে যদি খেজুর গাছ থাকে, তবে বাগানের কাঁচা খেজুর পরিমাপকৃত খোরমার (শুকনা খেজুর) বিনিময়ে বেচাকেনা করা, যদি আঙুর থাকে, তবে তা পরিমাপকৃত কিশমিশের বিনিময়ে কেনাবেচা করা, আর যদি ক্ষেতের ফসল হয়, তবে তা পরিমাপকৃত গমের বিনিময়ে কেনাবেচা করা, এসব থেকে তিনি নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম)

কৌশলে অন্যের পণ্য হরণ করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয়, তা বৈধ। (সুরা নিসা ২৯)

ঠকানো : ব্যবসায় নিজে ঠকা যাবে না এবং অপরকেও ঠকানো যাবে না। এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করল, সে বেচাকেনাতে প্রতারিত হয় বা ঠকে। রাসুল (সা.) বললেন, যখন তুমি বেচাকেনা করবে, তখন বলে দেবে যে, কোনো ধোঁকাবাজি নেই। তোমার জন্য তিন দিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। (সহিহ বুখারি) আমরা যদি এসব নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারি তাহলে আশা করা যায়, মহান আল্লাহ আমাদের রিজিকে বরকত দান করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এসব নিষিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে বিরত থাকার  তৌফিক দান করুন। আমিন।