আন্দোলন চালিয়ে যাবেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষকদের দশম গ্রেডের বেতন দাবিতে স্মারকলিপি দিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেউ না থাকায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন দশম গ্রেডপ্রত্যাশী আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা এ তথ্য জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে। আর সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় স্মারকলিপি জমা দেওয়া যায়নি। এটি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। এমন ঘটনায় আমরা অবাক হয়েছি। আপাতত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল বিকেলে দশম গ্রেডের বেতন দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদযাত্রা শাহবাগ এলাকায় আটকে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষকদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল শাহবাগ থানার ভেতর থেকে একটি পুলিশ ভ্যানে তাদের নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায়। প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাওয়া শিক্ষকরা হলেন মো. মাহবুবুর রহমান, মো. লুৎফর রহমান, মনিবুল হক বসুনিয়া, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন, আব্দুল মান্নান, জুয়েল, বিজয় কর্মকার, শামীমা নাসরিন, সিরাজুল ইসলাম ও খায়রুন নাহার লিপি।

শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষকদের আটকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, শিক্ষকদের শাহবাগ মোড়ের আগেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। পরে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষকদের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শামীমা নাসরিন বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে যেতে চাচ্ছিলাম। আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আজকের (গতকাল) মধ্যেই দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানাতাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের যেতে দেয়নি।’

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে দাবি আদায়ে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়ে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষকরা। এদিন সকাল থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টা নাগাদ সেখানে তারা সমাবেশ শুরু করেন। সমাবেশে সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান ফরিদপুর জেলা থেকে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজাদুল হক বাবুল। শপথে অধিকারের প্রশ্নে কারও সঙ্গে আপস না করার কথা বলা হয়।

সমাবেশে শিক্ষকরা জানান, দশম গ্রেড চেয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। দশম গ্রেড পেলে তা হবে ১৬ হাজার টাকা।

বরগুনার এম কে মজুমদার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে কারিকুলামে পড়াই, আমাদের যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, সেই একই কারিকুলামে একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয়। তারা দশম গ্রেডে বেতন পান, কিন্তু আমরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই।’

পাবনার চাকলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনেছি একটি কনসালট্যান্ট কমিটি হয়েছে। তারা প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি করতে চান বলে শুনেছি। আমরা তাদের বলব, আপনারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দশম গ্রেডে করুন।’