টঙ্গীতে কারখানায় রাতে টিফিন খেয়ে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে একটি কারখানায় রাতে টিফিন খেয়ে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টঙ্গীর সিংবাড়ি মোড় এলাকার বারাকা ফ্যাশন লিমিটেড নামক পোশাক কারখানা এ ঘটনাটি ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের রাতে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও গুটিয়া এলাকার ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানার শ্রমিক সূত্র জানা যায়, কারখানা কর্তৃপক্ষ ওভারটাইমে কাজ করানোর জন্য বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে রেখে দেয়। রাত আটটার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের টিফিন সরবরাহ করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে টিফিন বিতরণ করা হলে, এর পরই একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। অসুস্থ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হতে থাকায় কারখানার ভেতর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বারাকা ফ্যাশন লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী বলেন, বৃহস্পতিবার কারখানাটিতে ১১ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। রাতে ওভারটাইম করানোর কথা ছিল। পরে রাতে টিফিন খেয়ে রোকন, মিলি বেগম, মফিজুল ইসলাম, হাবিবা খাতুন, শিল্পী বেগম, রেজাউল করিম, রাব্বি, নাসিমাসহ প্রায় ১৬৪ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

টঙ্গীর বারাকা ফ্যাশন লিমিটেড শ্রমিক মিলি বেগম বলেন, রাত ৯টার দিকে আমিসহ ১১ জন একসঙ্গে টিফিন খাচ্ছিলাম। হঠাৎ মাথাব্যথা ও বমি হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর আমি অচেতন হয়ে যাই। রাত ২টার পর থেকে আমি অনেকটা সুস্থ।

বারাকা ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, শ্রমিকরা অসুস্থ হওয়ার পর কারখানার ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

টঙ্গীর সাতাঈশ গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কাজী কাশফিয়া তাবাসসুম বলেন, রাত ৩টা পর্যন্ত দেড় শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত ডিরেক্টর উপস্থিত থাকার কারণে সব রোগী সেবা পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, দেড় শতাধিক রোগীর মধ্যে তিনজন গর্ভবতী শ্রমিক থাকায় তাদের আলাদা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শুক্রবার (গতকাল) দুপুরে খবর নিয়ে জানা গেছে অসুস্থ হওয়া শ্রমিকরা সুস্থ হয়ে সবাই বাসায় চলে গেছেন।