চট্টগ্রামের নগরের খুলশী এলাকায় একটি ভবনে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। ডাকাত দলের সদস্যরা নিজেদেরকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছিল। তাদের কাছ থেকে ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়পত্র, তিনটি খেলনা পিস্তল, একটি মাইক্রোবাস ও একটি শাবল জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে নগরের দক্ষিণ খুলশি এলাকার ‘সানমার রয়েল রীচ’ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ডিজিএফআই পরিচয়ে ১৩-১৪ জন ঢুকে প্রধান ফটকে দায়িত্বরত ৩ সিকিউরিটি গার্ডের চোখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এসময় সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি হার্ড ডিক্স জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং ইন্টারকম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে ডাকাত দলের সদস্যরা ভবনের ৮তলায় যমুনা ওয়েল কোম্পানির সাবেক এমডি গিয়াস উদ্দিন আনসারীর ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। এ সময় আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জানতে পেরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ জনকে আটক করলেও ২-৩ জন পালিয়ে যায়। আটকরা ১১ জনকে জিজ্ঞাবাদের একপর্যায়ে তারা ডিজিএফআই এর সদস্য নয় বলে জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার খৈয়াখালী পাহাড়তলী গ্রামের মৃত ইদ্রিসের ছেলে মো. ইয়াকুব (৩৫), একই এলাকার হাজি আবদুর রহমান কোম্পানি বাড়ির মৃত হাজী তোফাজ্জল আহমদের ছেলে মোজাহের আলম (৫৫), হাটহাজারী উপজেলার বাতুয়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (২৬), নগরের সদরঘাট থানাধনি কদমতলী পোড়া মসজিদ এলাকার মো. আবদুস শুক্কুরের ছেলে মহিউদ্দিন (৪৫), নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ছুরিয়ালটুলী লেনের আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল সবুর (৩৭), কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ৪ নম্বর ইউনিয়নের আলী সিকদার বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. রুকন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার লৌহগ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. ওসমান (৪০), চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৪১), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মনষাগ্রাম কুসুমপুড়ার মৃত মাহবুব খানের ছেলে মো. ওয়াজেদ প্রকাশ রাকিব (৩৬), চট্টগ্রাম মিরসরাই থানার মধ্র কুরুয়া গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আবদুল মান্নান (৩৫) এবং কক্সবাজার সদর থানার মধ্য কুতুবদিয়া পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে শওকত আকবর ইমন (২৮)। এছাড়া মো. হারুন অর রশীদ (৩৬) নামে আটক হওয়া এক যুবকের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ভবনের বাসিন্দাদের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় বাসিন্দারা ১১ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুলশী থানার ওসি মজিবুর রহমান কাওসার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে ডাকাত দলের সদস্যরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত। তাদের সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।