সিলেটে বিয়েকাণ্ড

পুলিশের চাপে মামলা করেছেন রিসোর্টের এমডি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম এলাকায় অসামাজিকতার অভিযোগে ৮ তরুণ-তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রিজেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একটি মামলা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটনের মোগলাবাজার থানায় ওই মামলায় পার্কে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। তবে মামলার পর গত শুক্রবার রাতে এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সালিশ বৈঠক ডাকেন। ওই বৈঠকে পার্কের এমডিকেও ডেকে নেওয়া হয়।

বৈঠকে এমডি হেলাল আহমদ বলেন, আমি এখানে আর রিসোর্ট ব্যবসা করবো না। এলাকাবাসী যেভাবে বিষয়টির মীমাংসা করবেন আমি এতে রাজি। এসময় তিনি মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বলেন— আমি স্বেচ্ছায় মামলা করিনি, পুলিশ চাপ প্রয়োগ করে আমাকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে রবিবার পুলিশ কমিশনার বরাবর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন দেওয়ার কথা। 

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, রিজেন্ট পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বিএনপি নেতার চাঁদা দাবি, পার্কে কাজী ডেকে এনে ৮ জন তরুণ-তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া এবং মামলায় প্রবল চাপে পড়েন দক্ষিণ সুরমা বিএনপির নেতা তাজরুল ইসলাম তাজুলসহ তার অনুসারী নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর ব্যানারে গত শুক্রবার রাতে বৈঠক ডেকে সবকিছু ধামাচাপার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

পুলিশ জানায়, পার্কের এমডির করা মামলায় আসামিরা হলেন— দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ, ছাত্রদল কর্মী আলা উদ্দিন ফারাবি, সানোয়ার বখত রাহিন, হুসাইন আহমদ, কবির আহমদ, সুমন আহমদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

শুক্রবার রাতে এলাকাবাসী আয়োজিত সালিশে উপস্থিত ছিলেন- আবদুল কাইয়ুম মাস্টার, এম আহমদ আলী, আজিজুর রহমান, আবদুস শহিদ মাস্টার, আবদুর রহমান নুনু, আহসান হাবিব মঈন, শাহ অলিদুর রহমান, সাব্বির আহমদ, ফজলু মিয়া, শফিকুল ইসলাম, নেছার আলী প্রমুখ। সভায় পার্কের এমডি হেলাল আহমদ পুলিশের কথায় মামলা করেছেন জানিয়ে ওই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। 

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া অফিসার) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পার্কে হামলা-অগ্নিসংযোগের পর থেকেই পার্ক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরবর্তীতে মামলাও করেছেন। এখানে পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে মামলা করানোর কিছু নেই। 

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার রিজেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে হামলা চালায় স্থানীয় কিছু লোক। এসময় তারা রিসোর্টে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রিসোর্ট থেকে ১২ তরুণ-তরুণীকে আটক করে তারা। পরে কাজী ডেকে এনে তাদের মধ্যে ৮ জনকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।