মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর ও পঞ্চগড়। দিনাজপুরে গতকাল শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় এ তথ্য জানান দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন।
শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবীরা পড়েছেন বিপাকে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকালের দিকে ঘর থেকে সাধারণ মানুষ বের হচ্ছেন না। সড়ক ও মহাসড়কে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বায়ুম-লের উপরিভাগে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক থাকায় দিনে সূর্যের দেখা মিলছে না বা সূর্যের আলোর কাক্সিক্ষত তাপ পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী দু থেকে তিন দিন রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কিছুটা কমার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চগড়ে দুদিন পর গতকাল সকাল ১০টার পর সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে তাপ ছড়াতে পারেনি। শনিবার সকাল ৯টায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘রাতে বৃষ্টির মতো শিশির পড়বে, কুয়াশা পড়বে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।’
শীত আর ঘন কুয়াশায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বয়স্ক, শিশু এবং শ্রমজীবীরা। হাড় কাঁপানো ঠা-ার কারণে কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন অনেকে।
হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই। আবহাওয়াবিদদের সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
নীলফামারীতে বইছে হিমেল হাওয়া : গতকাল ভোর থেকে বৃষ্টির মতো ঝড়েছে কুয়াশা। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে তাপ নেন। সড়ক-মহাসড়কে দিনেও গাড়ি চলাচল করেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
পাঁচ দিন পর গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সূর্য উঁকি দিয়েছিল। বিকেলে ফের বইতে শুরু করে উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে আসা হিমালয়ের বরফছোঁয়া হিমেল হাওয়া।
জলঢাকার কাঁঠালী গ্রামের বোরো চাষি মোকছেদ আলী (৫৫) বলেন, ‘শুক্রবার ২ বিঘা জমিতে বোরোর চারা রোপণ করব বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু ঠান্ডার কারণে তা করতে পারিনি। আজ (শনিবার) দুপুরে রোদ ওঠায় মাঠে দ্রুত চারা রোপণে নেমে পড়ি। কিন্তু ২-৩ ঘণ্টা পর আবারও মেঘলা আকাশে ঢাকা পড়ে রোদ।
জেলা শহরের রিকশাচালক রইস উদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগেও দিনে যাত্রী ভালোই পাওয়া যেত। কিন্তু কয়েকদিন ধরে যে ঠান্ডা পড়েছে, মানুষ বাড়ি থেকে বেরই হতে চায় না। গত দুই দিনের মাত্র ৬টা ভাড়া মারছি। এমন দুর্ভোগ আর সহ্য হয় না।’
শনিবার নীলফামারীর ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ও সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।