মহাসড়কঘেঁষা মাটি লুট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উত্তর বাবুর্চি (সৈয়দপুর) এলাকায় সড়কের পাশের মাটি কেটে নিয়ে গেছে ইটভাটা মালিকরা। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়ক ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে ট্রাকে করে ইটভাটার মাটি পরিবহনের সময় সড়কে মাটি পড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। কুয়াশা বা হাল্কা বৃষ্টিতে সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উত্তর বাবুর্চি (সৈয়দপুর) এলাকায় সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের পাশে মেসার্স সিটি ব্রিকস্্ ও মেসার্স সাকুরা ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচার নামে দুটি ইটভাটা পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে। দুটি ইটভাটারই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। অবৈধভাবে বছরের পর বছর চলছে ভাটা দুটি। মেসার্স সিটি ব্রিকস্রে মালিক গাজী আনোয়ার হোসেন এবং তার পাশের মেসার্স সাকুরা ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারের মালিক আল রায়হান ওরফে আলকাছ উভয়ই ভাটার সামনে মহাসড়ক লাগোয়া অন্তত ২০ ফুট করে জায়গার মাটি কেটে নিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ট্রাক্টর বা ড্রামট্রাক করে মাটি আনা-নেওয়া করতে গিয়ে সড়কের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী লেনে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে থোকায় থোকায় পড়ে আছে মাটি। যানবাহন গেলেই বাতাসে ধুলো উড়ছে। কুয়াশা বা হাল্কা বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভাটায় ইট তৈরির জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফসলি জমির মাটি। জমি থেকে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে এসব মাটি পরিবহন করা হয়। বহনের সময় গাড়ি থেকে পড়া মাটি বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বিভিন্ন যানবাহন।

এ বিষয় স্টার লাইন পরিবহনের চালক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সড়কে ঝুরা মাটি পড়ার ফলে হাল্কা বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। পিচ্ছিল হওয়া স্থানে ব্রেক করলে বাস উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা বলেন, ‘মাটি কেয়ারিং করে সড়ক নষ্ট করে ফেলে। দেখা গেছে, একটা সড়ক এক বছরও টিকে না। বর্ষা মৌসুমে মোটরসাইকেল চাকলরাই বেশি দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। এ ভাটার মালিকরা মহাসড়ক শেষ করে দিয়েছে। সরকার তাদের কিছুই করে না।’

এ বিষয়ে মেসার্স সাকুরা ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচার ইটভাটার মালিক আল রায়হান ওরফে আলকাছ বলেন, ‘আমি জমিন বরাবর সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে নিয়েছি, সড়ক কাটিনি। আপনারা সাংবাদিকরা যা পারেন লেখেন। আমাদেরও সাংবাদিক রয়েছে, তারা ভালো লিখবে।’

মেসার্স সিটি ব্রিকসের মালিক গাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু আমি মহাসড়কের পাশ কাটিনি, আমার পাশে আরও অনেকে মাটি কেটেছে তাদের ধরেন।’

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রামের ইউএনও মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখেছি। নিয়মিত মামলা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব বলেন, ‘এ ভাটার কোনো ছাড়পত্র নেই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘ট্রাক থেকে পড়া ভেজা মাটির ফলে সড়কের বিটুমিন নষ্ট হয়ে যায়। এতে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সড়ক বিভাগ থেকে চিঠি দিয়েছি।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফাহমিদা মোস্তফা বলেন, ‘মহাসড়কের ওপর মাটি ফেলার ফলে হাল্কা বৃষ্টি হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়কের পাশের মাটি কাটা বড় ধরনের অপরাধ। স্থানীয় ইউএনওকে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।’