রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর আনোয়ার হোসেন (২৫) ও কদমতলীতে অনন্যা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তারা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
আজ রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আনোয়ার আর দুপুর দেড়টার অনন্যা গলায় ফাঁস দেন। বিকেলের দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত আনোয়ারের মা নুরজাহান বেগম বলেন, তাদের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার পেসকার হাওলা গ্রামে। আনোয়ারের বাবার নাম নুর আলম। বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর মাতবর বাজার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি গলিতে থাকেন। পেশায় পিকআপ ভ্যানচালক তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আনোয়ার এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা ধার নেন। ওই টাকার জন্য অনোয়ারকে চাপ দিতে থাকে। টাকা পয়সার বিষয় নিয়ে স্ত্রী শিল্পী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে দুইদিন আগে বরিশালে বাবার বাড়িতে চলে যান। এসব নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙএ পড়েছিলেন আনোয়ার। রবিবার দুপুরে বাসায় নিজের টিনসেড কক্ষে বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। দেখতে পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, অনন্যার বাবা আলী আকবর বলেন, তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায়। বর্তমানে কদমতলী মুরাদপুর এলাকায় থাকেন। তবে অনন্যা স্বামী আব্দুল্লাহ মো. জিহানের সঙ্গে ডেমড়া কোনাপাড়া এলাকায় থাকতেন। রবিবার সকালে স্বামীর বাসা থেকে বাবার বাসায় আসেন অনন্যা। নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকে। দুপুরের দিকে অনেক ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায় অনন্যা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে ঝুলে আছেন। পরে ঝুলন্ত থেকে নামিয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অনন্যা মানসিক রোগী ছিল। তবে কেন গলায় ফাঁস দিয়েছে তা আমাদের জানা নেই।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।