অবশেষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধসহ আদালত ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে পঞ্চগড় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেদ আলী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে একটু সময় লাগে। বিচারক বা কর্মকর্তার বিষয়ে কোনোরূপ সিদ্ধান্ত নিতে গেলে একটা প্রক্রিয়ার বিষয় থাকে।
তিনি বলেন, যে চার বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পঞ্চগড়ে তারা আর কোনো বিচারিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবেন না এবং তাদের প্রত্যাহার করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
পরে জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি জুলফিকার আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি এবং মোকাদ্দেসুর রহমান সান বক্তব্য রাখেন। তারা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সেনা সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। বলেন, এখন থেকে কোথাও কোনো অনিয়ম দুর্নীতি দেখলে এভাবেই প্রতিবাদ করা হবে। তারা সোমবার সকাল ১১ টায় অভিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান। পরে তারা আন্দোলন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এ সময় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, পঞ্চগড় অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর মেহেদী, জেলা জামায়াতের আমীর ইকবাল হোসাইন, পঞ্চগড় জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আদম সুফি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করে আদালত চত্বর থেকে বের হয়ে যান।
এর আগে দুপুর ৩টা থেকে পঞ্চগড়ে নিয়োগ-বাণিজ্যসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জেলা ও দায়রা জজসহ আদালতের চার বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের মুল ফটকে তালা মেরে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।