জামালপুরে ৩২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অবসরের কারণে একের পর এক শূন্য হচ্ছে পদ। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। তাই প্রতিবছরই বাড়ছে প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য স্কুলের সংখ্যা। অন্য শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তারাও নিয়মিত ক্লাস নিতে পারেন না। ফলে এসব বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ১৬৪টি অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এদের মধ্যে সরিষাবাড়ীতে ৫৫টি, মেলান্দহে ২৪, দেওয়ানগঞ্জে ৩৫, বকশীগঞ্জে ৬২, সদরে ৮৩, ইসলামপুরে ২৬ এবং মাদারগঞ্জে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলায় মামলা জটিলতায় আরও ১৫ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, প্রধান শিক্ষকের পদগুলোর ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নিয়োগ করা হচ্ছে না। আবার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না।
একাধিক শিক্ষক জানান, শহর এলাকায় বা শহরতলীর স্কুলগুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে অন্য এলাকা থেকে বদলি হয়ে পদ পূরণ হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতিবছরই এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী আমখাওয়া ইউনিয়নের আমখাওয়া পূর্বপাড়া আজিজুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় সাত বছর এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষক নূর হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নূর হোসেনকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয় আবার ক্লাসও নিতে হয়। প্রতিটি শিক্ষককে প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি ক্লাস নিতে হয়। প্রশাসনিক কাজে বা বিভিন্ন সভায় যোগদান করতে তাকে প্রতি মাসেই যেতে হয় উপজেলা সদরে। তখন তিনি ক্লাস নিতে পারেন না। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।’
একই উপজেলার ঝাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ২০১১ সালে অবসরে যান। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী শিক্ষক তাছমিয়া তাওছিনকে।
সদর উপজেলার চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যান গত বছরের ৩১ জুলাই। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী শিক্ষক আউলিয়া আক্তারকে। এভাবেই ৩২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর শূন্য হয়ে পড়ছে পদগুলো। সেখানে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষানুরাগী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। তাই সেখানে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পদোন্নতি শুরু হলেই সংকট দূর হবে।