অভিবাসীদের গুয়ানতানামো বেতে পাঠাতে ট্রাম্পের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুয়ানতানামো বেতে একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। আটক কেন্দ্রটিতে প্রায় ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে রাখা যাবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এ স্থাপনা সেখানকার উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত সামরিক কারাগার থেকে আলাদা হবে। আটক কেন্দ্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য হুমকি, তেমন ব্যক্তিদের রাখা হবে। বস্তুত এই ব্যক্তিদের অবৈধ এলিয়েন বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। কিউবায় অবস্থিত কুখ্যাত এই গুয়ানতানামো বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি, যা অতীতে ৯/১১ হামলার সঙ্গে জড়িত বন্দিদের রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ এনে বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা এসব আটক কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনাও করেছে। হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুমে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আমাদের গুয়ানতানামোতে ৩০ হাজার বেড রয়েছে, যেখানে আমেরিকান জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের আটক রাখা হবে। তাদের মধ্যে কিছু এতটাই ভয়ংকর যে, আমরা তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাই না। তাই আমরা তাদের গুয়ানতানামোতে পাঠাব। এটি আমাদের আটক রাখার সক্ষমতা দ্বিগুণ করবে এবং এটি এমন একটি জায়গা, যেখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর তার সীমান্তপ্রধান টম হোম্যান বলেছেন, গুয়ানতানামো বেতে বিদ্যমান স্থাপনাটি আরও সম্প্রসারিত করা হবে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্বারা পরিচালিত হবে এটি। তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড যে অভিবাসীদের সমুদ্রে আটক করবে তাদের সরাসরি সেখানে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং আটক রাখার সর্বোচ্চ মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। কিউবার সরকার এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। সেইসঙ্গে দখলকৃত ভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অবৈধ আটকের অভিযোগ এনেছে। গুয়ানতানামো বে কারাগার মূলত সন্ত্রাসবাদীদের আটক রাখার জন্য কুখ্যাত। যেখানে বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসন এই কেন্দ্র বন্ধ করতে চেয়েছিল। বর্তমানে কারাগারটিতে ১৫ জন বন্দি রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে গুয়ানতানামো বেতে একটি পৃথক অভিবাসী আটক কেন্দ্র থাকার কথা জানিয়েছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস।