তিন জিম্মির বিনিময়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে মুক্তি

ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী আরও তিন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে প্রথমে ২০ বছর বয়সী ইসরায়েলের নারী সেনা আগাম বার্গারকে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেয় হামাস ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ। জাবালিয়া থেকে এক জিম্মির মুক্তির পর খান ইউনিসে ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ির সামনে থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ২৯ বছর বয়সী আরবেল ইয়েহুদ ও ৮০ বছর বয়সী গাদি মোজেসকে। ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ১১০ ফিলিস্তিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে তেল আবিব।

যুদ্ধবিরতির পর তৃতীয় দফায় বৃহস্পতিবার প্রথম বার্গারকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাকে জিম্মি করা হয়েছিল ইসরায়েলের নাহাল ওজ ঘাঁটি থেকে। বাকি দুই বেসামরিককে সশস্ত্র যোদ্ধারা ওজ বসতি থেকে অপহরণ করেছিল। যুদ্ধবিরতির শর্তে না থাকলেও খান ইউনিস থেকে পাঁচজন থাই জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস।

বিবিসি জানিয়েছে, হামাস ও থাই সরকারের মধ্যে হওয়া পৃথক এক চুক্তির আওতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই পাঁচজনসহ মোট ৮ থাই নাগরিককে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি খামার থেকে জিম্মি করেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। তাদের মধ্যে পরে দুজন নিহত হন। এর আগে দুই দফায় আরও সাত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল এ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।

এদিকে, ইসরায়েলের মুক্তি দেওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩২ জন যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন। আরও ৪৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ছিল। বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পেতে যাওয়া এ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩০ শিশু ও নারী বন্দিও আছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনারস মিডিয়া অফিস।

মুক্তিপ্রাপ্ত এসব বন্দিদের মধ্যে ৪৩ জন ফাতাহ সংশ্লিষ্ট, ২৪ জন হামাসের, ১৯ জন ইসলামিক জিহাদের, চারজন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এবং দুইজন ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টোইনের সদস্য বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।