মিয়ানমারে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা জান্তা বাহিনী আরেকটি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বৈধতা অর্জনে তোড়জোড় শুরু করেছে। কিন্তু গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটিতে জান্তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা সহিংসতার ঝুঁকি তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত দুই মাসে জান্তা সরকার চলতি বছরে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রতিবেশীদের কাছে পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে ভোটারদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য পরিচালিত একটি আদমশুমারির ফলও প্রকাশ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিতে জান্তা কাজ করছে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বেশ কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে। বিশ্লেষক, বিদ্রোহী ও কূটনীতিকসহ আটটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে উত্তেজনার পারদ আরও চরমে পৌঁছতে পারে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ক্ষমতায় আসা জান্তা বাহিনী দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়। দেশ জুড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থিদের সঙ্গে লড়াইয়ে একের পর এক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্তা বাহিনী। এর মধ্যেই এসব পদক্ষেপ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে ক্ষমতাসীন জান্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসন্ন এ নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দেশের অর্ধেক এলাকায় নির্বাচন, কয়েক ডজন বিরোধী গ্রুপকে নিষিদ্ধ ও শুধু জান্তাপন্থি দলগুলোকে নির্বাচনে সুবিধা দেওয়ার বিষয়কে সামনে এনে এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পিস ইনস্টিটিউটের মিয়ানমারবিষয়ক বিশ্লেষক মায়ো হাইন বলেন, এটি অনিবার্যভাবে সংঘাতকে তীব্রতর করে নজিরবিহীন স্তরে নিয়ে যাবে। চলতি মাস শেষে মিয়ানমার জুড়ে জারি থাকা জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জান্তা সরকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়াতে পারে এমন জল্পনাও রয়েছে।
গত বছর ডিসেম্বরে প্রকাশিত আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ৩৩০টি শহরের মধ্যে মাত্র ১৪৫টিতে সরেজমিনে শুমারি করতে সক্ষম হয়েছে জান্তা সরকার। এর মধ্যে ১৬০ থেকে ১৭০টি শহরে জান্তা সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে বলে রাজধানী নেপিদোর আলোচনার বিষয়ে জ্ঞাত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ভোটের আগে জান্তা এসব এলাকায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নজর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়নি জান্তা সরকার।