রুয়ান্ডা অবৈধভাবে মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের দখল নিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন কঙ্গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তারা কঙ্গোর শাসনক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে চায় বলে অভিযোগ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেজ কাইকোয়াম্বা ওয়াগনারের। বিবিসিকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগমেকে কয়েকদশক ধরে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থতা এবং ছাড়ের ফলে এমনটি ঘটেছে।
রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের গোমা শহর দখল নিয়েছে এবং রাজধানী কিনসাসার দিকে অগ্রসর হওয়ার হুমকি দিয়েছে। রুয়ান্ডার এমন হস্তক্ষেপের কারণে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং দেশটিতে বৈদেশিক সাহায্য পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াগনার। তা ছাড়া, বিশ্ব জুড়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে রুয়ান্ডার সেনাদের বরখাস্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
তবে কঙ্গো দখল নিয়ে ওয়াগনারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুয়ান্ডা সরকারের মুখপাত্র ইওলান্দ মাকোলো। তিনি বলেন, ওই অঞ্চল জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রুয়ান্ডার সেনাদের সেখানে মোতায়েন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধে আগ্রহী নই। আমরা ভূখ- দখল করে নিতে কিংবা শাসনক্ষমতা পরিবর্তন করতেও আগ্রহী নই।
১৬ সদস্যের আঞ্চলিক জোট দ্য সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি কঙ্গোর পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার জিম্বাবুয়েতে বিশেষ বৈঠক করছে। এই জোট প্রাথমিকভাবে দশকের দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কঙ্গোতে এম২৩ এর মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছে। কয়েক দশক ধরে সংঘাতের পর এই শান্তিরক্ষী পাঠায় তারা।
গত সপ্তাহে গোমা আশপাশে এম২৩ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে এসএডিসির ১৬ সেনা নিহত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাকযুদ্ধে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট কাগামে বলেছেন, এসএডিসি সেনারা শান্তিরক্ষী বাহিনী নয়। কঙ্গোর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের কোনো স্থান নেই। চলতি বছরের শুরু থেকে বিদ্রোহী এম২৩ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত ১৭ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার সেনা।