জয়পুরহাট

বিয়ের ২ দিন আগে নিখোঁজ, নদীর পাড়ে মিলল যুবকের ঝুলন্ত লাশ

জয়পুরহাটে বিয়ের দুদিন আগে নিখোঁজ হওয়া মাহমুদুল পিপাস (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সদরের ধারকি শতিঘাটা তুলশী গঙ্গা নদীর পাড়ে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহমুদুল পিপাস জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর গ্রামের মৃত মাহবুবুর রহমানের ছেলে। সে জয়পুরহাট শহরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতো। বর্তমানে জয়পুরহাট শহরের ধানমন্ডি এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

জানা যায়, রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার সতিঘাটা তুলসী গঙ্গা নদীর বাঁধ এলাকায় এক নারী গাছের পাতা কুড়াতে গিয়ে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পায় ও চিৎকার দেয়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসীরা এসে পরে পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত শুক্রবার পিপাসের বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল। এর দুদিন আগে গত ২৯ জানুয়ারি সকালের দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে নাই। তার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্ধান মিলেনি।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই পরদিন জয়পুরহাট সদর থানায় একটি নিখোঁজের ডাইরি করেন।  রবিবার সদর উপজেলার ধারকি শতিঘাটি এলাকায় তুলশী গঙ্গা নদীর পাড়ের নির্জন বাগানে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহতের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত পিপাসের বন্ধু শুভ হোসেন জানান, তার বন্ধু বিয়ের প্রস্ততি নিচ্ছিল। গত শুক্রবার তার বিয়ের দিন ছিল। এ জন্য তিনি কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়াও পরিশোধ করেছেন। হঠাৎ করে তার বন্ধু বিয়ের দুদিন আগে নিখোঁজ হয়। তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। এর সুষ্ঠু বিচার দাবি তার।

জয়পুরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরি হয়েছে। খবর পেয়ে পিপাসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তে শেষে মৃত্যুর কারণ  জানা যাবে। তবে বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।