ভক্তের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন আঁখি

‘ভাইয়া কেমন আছেন? ৭ ফেব্রুয়ারি অবশ্যই আসবেন আমার বিয়েতে’ একটা অপরিচিত নম্বর থেকে আসা এই বার্তায় প্রথমে চমকে যেতে হলো। পরক্ষণেই হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেন নিমন্ত্রণপত্র। যাতে আঁখির পাশে আছে হবু স্বামীর ছবি। হ্যাঁ, বিয়ে করতে যাচ্ছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন।

বরের পরিচয় দিতে গিয়ে লাজুক হেসে বললেন, ‘ও আমার খেলার অনেক বড় ভক্ত। এতটাই ভক্ত যে চার বছর আগে সুদূর চীন থেকে আমার খেলা দেখতে হাজির হয়েছিল মাঠে। সেটাই আমাকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করেছিল।’

আঁখির সেই ভক্তের নাম মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম টিংকু। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক এই ছাত্র সাংহাইয়ের একটি স্থানীয় ক্লাবের টেনিস কোচ হিসেবে কর্মরত অনেক দিন। প্রিয় মানুষের টানে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জাতীয় দল ছেড়েছিলেন আঁখি। তবে তবে ফুটবল ছাড়তে পারেননি। সাংহাইয়েই সেই ক্লাবের হয়ে খেলেন। পাশাপাশি খুদে ফুটবলারদের কোচিংও করান দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।

আঁখি নিজেও ছিলেন বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী। তবে পরিচয়টা সেখানে হয়নি দুজনের। প্রথম পরিচয়ের গল্পটা বললেন আঁখি, ‘আমি তখন জাতীয় দলে পুরোদস্তুর খেলছি। ও আমার খেলার ভীষণ ভক্ত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার খেলা ভালো লাগার কথা টুকটাক বলত। পরে একদিন দেখি আমার খেলা দেখতে সরাসরি চীন থেকে দেশে চলে এসেছে। এরপর থেকেই নিয়মিত কথা হতো। এভাবেই এক সময় ভালো লেগে যায়।’

চীনে একটি ক্লাবে খেলতে যাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে প্রিয় মানুষের মাধ্যমেই যে সেখানে যাওয়া, সেটা কখনই স্বীকার করেননি। অবশেষে রাজশাহীর টিংকুকেই জীবনসঙ্গী করার সিদ্ধান্ত নিলেন, ‘সত্যি বললে ও আমাকে সবসময় অনেক সমর্থন করে। আমি যাতে খেলার পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাই, তার জন্য আমাদে উদ্বুদ্ধ করে। এ রকম একটা ভালো মানুষকে নিজের করে পাচ্ছি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’

সাংহাইয়ে থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখাটা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন গত ডিসেম্বরে দেশে আসা আঁখি। তবে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাটা যাতে চালিয়ে যান সেটা খুব করে চান হবু বর টিংকু। আঁখিকে সাংহাইয়ের লিগে খেলতেও দেখতে চান তিনি, ‘আমি ২০১৮ সালে চীনে যাই কোচিং করানোর জন্য। মাঝখানে কোভিডের সময় দেশে ছিলাম কিছুদিন। এরপর ২০২৩ সাল থেকে সাংহাইয়ে একটা ক্লাবে কোচিং করাচ্ছি। আর আঁখি একটি ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা খুব করে চেষ্টা করছি যাতে ওখানে কোনো ক্লাবের হয়ে লিগে খেলতে পারে। আশা করি একটা ক্লাব মিলে যাবে।’

২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন আঁখি। সেই আসরে বাংলাদেশ একটি মাত্র গোল হজম করেছিল, সেটিও ফাইনালে। দলের এই সাফল্যে বড় অবদান ছিল মেয়েদের কায়সার হামিদ তকমা জুটে যাওয়া আঁখির। সাফের কয়েক মাস পর হুট করেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। সে সময় ইউরোপের একটি ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে বাফুফে সে সময় ছাড়েনি আঁখিকে। তাই অভিমানেই ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। পরে চলে যান চীনে। আঁখি-টিংকুর বিয়ে হবে সিরাজগঞ্জে। তবে নিবাস গড়বেন সাংহাইতে।