ওমরাহ ও সৌদি আরবগামী ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য বাধ্যতামূলক মেনিনজাইটিস টিকা দেওয়ার সরকার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই এসব কেন্দ্রে স্বল্প পরিসরে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল তা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। অধিদপ্তর আশা করছে, আজ থেকে সরকার নির্ধারিত ৮০টি কেন্দ্রেই টিকা দিতে পারবেন ওমরাহ ও সৌদি আরবগামী ভিজিট ভিসাধারীরা।
গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ থেকে টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে এসব কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা নিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন থেকে টিকার সনদ পাওয়া যাবে। তবে ভিসাধারীদের টিকা নিয়ে যেতে হবে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, টিকা কেন্দ্রে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বল্প পরিসরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে। আশা করছি আজ-কালের মধ্যে সব কেন্দ্রে টিকা দেওয়া যাবে।
অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম প্রস্তুত : অধিদপ্তর হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বিভাগের ইনচার্জ ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ই-হেলথ) ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মেনিনজাইটিস টিকার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেকেই ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব গমন করে থাকেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে যে সব যাত্রী ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব যাবেন অথবা ভিজিট ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ অথবা জিয়ারাহ করবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে মেনিনজাইটিস টিকা গ্রহণ করতে হবে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে অনলাইনে নিবন্ধন এবং টিকা সনদ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করার জন্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগ ভ্যাক্সইপিআই (ভ্যাক্সইপিআই ডট গভ. ডট বিডি) সিস্টেম প্রস্তুত করেছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা ঘরে বসেই তাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড অথবা জন্মনিবন্ধন নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টিকাকার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। টিকা কার্ডে কিউআর কোড স্ক্যান রয়েছে। নির্ধারিত সেন্টার থেকে টিকা প্রদানের পর স্ক্যান করে টিকার আপডেট করা সম্ভব। টিকার সনদ অনলাইন থেকেই ডাউনলোড করা যাবে যেটি আন্তর্জাতিকভাবে কিউআর কোড স্ক্যান করে ভেরিফাই করা যাবে। একই সঙ্গে এই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রতিটি ব্যক্তিকে একটি হেলথ আইডি প্রদান করা হবে যার মাধ্যমে পরে সব স্বাস্থ্য তথ্য সন্নিবেশিত সম্ভব হবে।
পাঁচ নির্দেশনা : মেনিনজাইটিস টিকা নেওয়ার ব্যাপারে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলোÑ ১. ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব গমনকারী যাত্রীদের কর্মপক্ষে ১০ দিন আগে বাধ্যতামূলকভাবে মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন দিতে হবে। ২. এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করা প্রয়োজন নেই। ৩. মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন দুই ধরনের রয়েছে। এর মধ্যে পলিস্যাকারাইড টিকা নিলে তিন বছর এবং কনজুগেটেড টিকা নিলে পাঁচ বছর পর্যন্ত ভ্যাকসিন সনদটি কার্যকর থাকবে। ৪. ভ্যাকসিনের সনদে অবশ্যই নিজের পরিচয়, ভ্যাকসিনের নাম, ধরন ও ভ্যাকসিন গ্রহণের তারিখ যথাযথভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ৫. সৌদি আরবে ওয়ার্ক ভিসায় গমনেচ্ছু যাত্রীদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
তিন সুপারিশ : মেনিনজাইটিস টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো ১. ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় গমনকারী যাত্রীরা নিজস্ব অর্থায়নে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবেন এবং ভ্যাকসিনের কোল্ড চেইন বজায় রেখে সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন। ২. সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণপূর্বক সনদ গ্রহণ করবেন। ৩. নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে হজযাত্রীদের মতো ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় যাত্রীদের ভ্যাকসিন সনদ প্রদান এবং উক্ত ভ্যাকসিনের সনদ ডিজিটালভাবে এমআইএস-এর ভ্যাক্স ইপিআই সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।
যেসব কেন্দ্রে টিকা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ৮০টি কেন্দ্র নির্দিষ্ট করেছে। এর মধ্যে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকে এই টিকা দেওয়া যাবে।
ঢাকার বাইরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও দিনাজপুরের ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা দেওয়া যাবে।
এ ছাড়া ৬৪ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকাদানের ব্যবস্থা রয়েছে।