জার্মানির পার্লামেন্টে পাস হয়নি বিতর্কিত অভিবাসন নীতি

জার্মানির পার্লামেন্টে অভিবাসন আইনে কঠোর করার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বিল পাস হয়নি। তবে বিল পাসে উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক দল এএফডিকে সমর্থন করায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে উদারপন্থি রাজনৈতিক দল সিডিইউ ও দলটির প্রধান চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী মের্জ।

জার্মানির পার্লামেন্টে নানা তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনার পর অবশেষে মুখ থুবড়ে পড়ল অভিবাসন নীতি কঠোর করার পরিকল্পনা বিল।

গত শুক্রবার জার্মান পার্লামেন্টে বহুল আলোচিত প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়। এতে দেশটিতে বসবাসরত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশী ও শরণার্থীদের মধ্যে কিছুটা হলেও শঙ্কা কমার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও স্বস্তি ফিরেছে।

এদিন বিকেল থেকেই দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত অভিবাসন ও শরণার্থী নীতি আরও কঠোর করার প্রস্তাবের ওপর পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছে এমন সব দলের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে বহুমুখী তর্ক-বিতর্ক। পরে ভোটাভুটিতে অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রস্তাবটি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সব দল।

এর আগে জার্মান পার্লামেন্টে উগ্র ডানপন্থি দল সিডিইউর তোলা অভিবাসন আইন কঠোর করার প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন বিশ্বব্যাপী অভিবাসীবান্ধব হিসেবে পরিচিত একসময়ে দলটির প্রাণ ও দেশটির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এএফডির সহযোগিতা নিয়ে এমন অমানবিক প্রস্তাব পাস জার্মানির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো।

এদিকে জার্মানিতে অভিবাসন নীতি কঠোর করতে সিডিইউর প্রস্তাবে দেশটির কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল এএফডির সহায়তা নেওয়ায় জার্মানি জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। কোলন, হামবুর্গ, মিউনিখ, পাইপসহ অন্যান্য শহরে অনুষ্ঠিত এসব সমাবেশ থেকে নব্য নাৎসি দল হয়েছে পরিচিত এএমডি, সিডিইউ ও দলটির চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী সিডরের মের এর তীব্র নিন্দা জানান বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে জার্মানিতে আটকে গেলেও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।