শরীয়তপুর

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বাজার দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কাঁচাবাজার দখলে নিয়ে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি, ৪০ বছর আগ থেকে এই জায়গা তার মালিকানাধীন। দুই বছর আগে ক্ষমতাবলে তার বিপক্ষের লোকজন কাঁচাবাজারের জায়গা দখল করে নিয়েছিল।

এ বিষয়ে জাজিরা থানায় অভিযোগ করেছেন একটি পক্ষ। এদিকে অভিযোগ তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাজিরা থানার ওসি।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আব্দুর রাজ্জাক মাদবর। তিনি উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বি কে নগর আনন্দ বাজারের একপাশে ১০/১২ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি আধপাকা কাঁচাবাজার গড়ে তোলেন ওই এলাকার ব্যবসায়ী মজিবর বানিয়া। বাজারটিতে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। সেখানে মাছসহ দুই শতাধিক কাঁচামালের দোকান বসে। ওই এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ বাজারে বিক্রি করে থাকেন।

প্রতি হাটে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে খাজনা তুলতেন দোকান মালিক মজিবর বানিয়া। কিছুদিন আগে এক বিএনপি নেতার করা মামলায় জেলে যান মজিবর বানিয়া।

এ সুযোগে বিকেনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক মাদবর দলবল নিয়ে কাঁচাবাজারটি দখল করে বলে অভিযোগ ওঠে। গত এক সপ্তাহ যাবত বাজারটি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলছেন রাজ্জাক মাদবর ও তার লোকজন। এ ঘটনায় মজিবর বানিয়ার ছেলে সামিউল ইসলাম বানিয়া জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মজিবর বানিয়ার ছেলে সামিউল ইসলাম বানিয়া বলেন, বাজার ও আশপাশে আমার বাবা-চাচাদের ৬ একর ২৯ শতাংশ জমি রয়েছে। বাজারের একপাশে আমাদের কেনা ১৬ শতাংশ জমিতে বাবা ১০/১২ বছর আগে আধপাকা একটি কাঁচাবাজার নির্মাণ করেন। সেখানে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে। প্রতি হাটে আমরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতাম। কিছুদিন আগে এক বিএনপি নেতার মিথ্যা মামলায় আমার বাবা জেলে যান। এ সুযোগে আব্দুর রাজ্জাক মাদবর ও তার লোকজন অন্যায়ভাবে আমাদের কাঁচাবাজারসহ অনেক জমি দখল করে নেয়। রাজ্জাক মাদবর সরকার পতনের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। এখন তিনি বিএনপি নেতা বনে গেছেন। তারা এখন জোরপূর্বক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছেন। বাজারে খাজনা তুলতে গেলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচাবাজারটি কয়েক বছর আগে মজিবর বানিয়া নির্মাণ করেছেন। এতদিন ব্যবসায়ীরা মজিবর বানিয়াকেই খাজনা দিতেন। এখন রাজ্জাক মাদবরের লোকজন খাজনা তুলছেন।

বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রিপন বেপারী, চুন্নু মিয়া, কাঁচামাল ব্যবসায়ী সোবাহান মাঝি, পান ব্যবসায়ী তারা মিয়াসহ অনেক ব্যবসায়ী বলেন, এই কাঁচাবাজারটি মজিবর বানিয়া নির্মাণ করেছে। এতদিন আমরা তাকেই খাজনা দিতাম। গত এক সপ্তাহ যাবত রাজ্জাক মাদবর, মজিবর মাদবরের লোকজন খাজনা তুলছে। এখন থেকে তারাই নাকি খাজনা তুলবে। এটা নাকি তাদের জায়গা। তাই আমরা বাধ্য হয়ে তাদের খাজনা দিচ্ছি।

তবে আব্দুর রাজ্জাক মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাঁচাবাজারের এই জায়গা আমাদের। ৪০ বছর আগে থেকে এই জায়গা আমাদের দখলে আছে। দেড়-দুই বছর আগে  মজিবর ও তার সহযোগীরা ক্ষমতাবলে জোর করে আমাদের ১৬ বিঘা জমি দখল করে নেয়। এতদিন আমরা এলাকায় থাকতে পারিনি। ৫ আগস্টের পরে আমরা এলাকায় আসি এবং আমাদের কিছু জায়গা দখল করি। বাকি জায়গা এখনো আমরা দখল করতে পারিনি। আমাদের দলিলপত্র সবই আছে।  

জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, ৫ আগস্টের পর বিকেনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক মাদবর ওই কমিটির একজন সদস্য। আমি শুনেছি বিকেনগর আনন্দ বাজারে রাজ্জাক মাদবরের সঙ্গে মজিবর বানিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অবৈধভাবে কাঁচাবাজার দখল করে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। রাজ্জাক মাদবরের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাজিরা থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, বিকেনগর আনন্দ বাজারে কাঁচাবাজার দখলের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।