নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলোর (শৌচাগার) অবস্থা শোচনীয়। বেশিরভাগ টয়লেটের ভেতর নোংরা, ময়লা জমে আছে। ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয়ে আছে পানি তোলার পাম্প কিংবা টিউবওয়েল। এতে করে একদিকে ছাত্রছাত্রীরা যেমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে কয়েকটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ভবন থাকলেও টয়লেটের ভেতরের অবস্থা নাজুক। ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। টয়লেটের ট্যাপের কলগুলো নষ্ট হয়ে আছে। পানির লাইনগুলোও জরাজীর্ণ। কিছু কিছু টয়লেট একেবারে ব্যবহার অনুপযোগী।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মাদ্রাসাসহ ৪৭টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ছয়টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পাঁচটি মাদ্রাসা রয়েছে। আর এসব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ২০০ জন।
বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফোয়া খান মাইশা ও ফাহামিদা ইয়াসমিন অনিকা জানান, তাদের বিদ্যালয়ে কোনো হাইজেনিক কর্নার নেই। টয়লেটগুলো ময়লা, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। সেখানে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্গন্ধের কারণে ছাত্রছাত্রীদের বমি হওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য স্যানিটেশন প্যাডের কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও হাইজেনিক কর্নার স্থাপনের দাবি জানান।
উপজেলার পৌরসভার লক্ষণহাটী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ আমরা নষ্ট করতে পারি না। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সুন্দর না হলে তারা বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে ভোগার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে সমস্যায় পড়বে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও হাইজেনিক কর্নার নির্মাণের জোর দাবি জানাই।’
উপজেলার হিজলী সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী। এ কারণে অনেক সময় টয়লেট পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয় না। তারপরও পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। বিদ্যালয়ে আলাদা কোনো হাইজেনিক কর্নার নেই। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষিকাদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়সার ওয়াদুদ বাবার বলেন, ‘যতটুকু পারা যায় টয়লেট পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা পেলে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব হবে।’
‘নিজেরা করি’ সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘উপজেলার দু-একটি বিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলো নোংরা ও অপরিষ্কার। কোনো বিদ্যালয়েই হাইজেনিক কর্নার নেই। এটি দুঃখজনক। আমরা দুই বছর ধরে কিশোর-কিশোরীদের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাইজেনিক কর্নার ও স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা পরিচালনা করে আসছি। বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গেও আমরা পরামর্শ করছি।’
এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ কুমার ম-ল বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’