পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) করা প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো দ্বৈতনীতি পরিহার করে আরইবি-পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো পুনর্গঠন, চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিতদের চাকরি নিয়মিত করা, আরইবির মাধ্যমে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দমন-পীড়ন, হয়রানি ও উসকানিমূলক কর্মকা- বন্ধ, নির্যাতন বন্ধ এবং আরইবির দুর্নীতিবাজদের শাস্তির জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা।
দেশ জুড়ে ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন ও চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই আন্দোলন করছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি নিজেদের দাবি আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টার কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি দেন পবিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বর্তমানে সমিতিতে ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের ৩০ হাজার ১৭৭ জন সই করেন ওই স্মারকলিপিতে।
স্মারকলিপি দেওয়ার পর আরইবির শীর্ষ কর্মকর্তারা সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে চাকরিচ্যুতি ও মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া হয়রানিমূলক বদলি করারও অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে মন্তব্য করা নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি ভোলা সমিতির দুজন ও পটুয়াখালী সমিতির একজন মিটার রিডারকে বিনা নোটিসে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, গত বছরের জানুয়ারি থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি, দ্বৈতনীতি, শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্মারকলিপি প্রেরণ, গণস্বাক্ষর গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা চালু রেখে কর্মবিরতিসহ শান্তিপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আরইবি কর্তৃক নিম্নমানের মালামাল ক্রয়ের কারণে সৃষ্ট গ্রাহক ভোগান্তি এবং আরইবির বিগত সময়ের বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও আরইবি গত বছরের ১৬ অক্টোবর সমিতির ১০ জন কর্মকর্তাকে পূর্ব নোটিস ছাড়াই চাকরিচ্যুত এবং একই তারিখ রাতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।