মিরাজের নেতৃত্বের ভুলেই খুলনার হার?

বিপিএলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ দুই ওভারে চিটাগং কিংসের দরকার ছিল ২১ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৬ রান দেন হাসান মাহমুদ। শেষ ওভারের জন্য অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের অস্ত্র ছিল অভিজ্ঞ জেসন হোল্ডার এবং তরুণ মুশফিক হাসান। শেষ পর্যন্ত মিরাজ বেছে নেন মুশফিককেই। কিন্তু অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এই তরুণ পেসার।

শেষ ওভারে ১৫ রান তুলে ফাইনালে উঠে যায় চিটাগং কিংস। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই বলছেন, অভিজ্ঞ হোল্ডারের বদলে তরুণ মুশফিকের হাতে বল তুলে দেওয়াই খুলনার হারের বড় কারণ। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এমনটা মনে করেন না। বরং এই হারের পেছনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সাবেক অধিনায়ককে দায়ী করেছেন খুলনা অধিনায়ক।

ম্যাচের শেষ তিন ওভারে যখন ৩৪ রান প্রয়োজন, তখন ১৮তম ওভারে একটি করে চার-ছক্কা হজম করে ১৩ রান দেন হোল্ডার। সেটাকেই হারের জন্য দায়ী করেছেন মিরাজ, ‘পরিকল্পনা যেটা ছিল, হোল্ডার এর আগে যে বোলিংটা করেছে; আমাদের ১৪ বলে (আসলে ১৫ বলে) রান লাগত ৩২। ওখানে এক বলে একটা ছক্কা, একটা চার খেয়েছে। ওখানেই ম্যাচটা ছুটে গেছে। একজন অভিজ্ঞ বোলারকে ওই মুহূর্তে যদি বোলাররা চার-ছক্কা মেরে দেয়, তাহলে তো এটা আমাদের দলের জন্য কঠিন।’

একইসঙ্গে হাসান মাহমুদের প্রশংসাও করেছেন মিরাজ, ‘হাসান বেশি ভালো বল করেছে বলে শেষ ওভারে ১৫ রানে গিয়ে ঠেকেছে। ওখান থেকে যদি মুশফিককে করাতাম, তাহলে শেষ ওভারে তো আবার এ রকম ১০-১২ লাগত। এ জন্য আমি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না, কারণ ওই দুটা বল যেভাবে করেছে, যেখানে করেছে হোল্ডার; অন্তত মুশফিক তো শেষ দুইটা ওভার খুবই ভালো করেছে। ওদের যে ভাইটাল ব্যাটসম্যান, তার উইকেটটা নিয়েছে। এ চিন্তা করে ওকে দিয়েছি।’

শেষ বল ঘিরে খুলনা টাইগার্সের পরিকল্পনা জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘মুশফিককে বারবার বলছিলাম তুমি কী চাইছ। কারণ এখানে বোলার প্রায়োরিটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বল করব না, বোলার বল করবে। ও বলল আমি ইয়র্কার করব। আমি বললাম ইয়র্কার কোথায় করলে ভালো হবে, তখন বলল যে ভাই আমি স্টাম্পেই করব। আমি বললাম স্টাম্পেই ইয়র্কার করার চেষ্টা করো। স্টাম্পে ইয়র্কার করলে হয়তো কাজ হবে। আমি ওর দোষ দিচ্ছি না। তার ওপর এরকম চাপের পরিস্থিতিতে খেলছে।’