দেওবন্দ আন্দোলন ইমানদীপ্ত চেতনা

আমাদের ইলমি ও আমলি কেন্দ্র, আদর্শিক সংগ্রাম ও চেতনার সূতিকাগার দারুল উলুম দেওবন্দ। ইলমে নববীর আলোকধারায় উদ্ভাসিত, স্বচ্ছ ধারার ওলামা-মাশায়েখ তৈরি করা এবং ব্রিটিশবিরোধী আজাদি আন্দোলনের গতিধারা বেগবান করা ছিল ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্রের বুনিয়াদ রচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

১৮৫৭ সালে ব্রিটিশবিরোধী ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এর ৯ বছর পর ১৮৬৬ সালের ৩০ মে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। যুগে যুগে বাতিল অপশক্তির যত চক্রান্ত সামনে এসেছে, সবই নস্যাৎ করতে দারুল উলুম দেওবন্দের ইমানি চেতনাদীপ্ত সন্তানরা এগিয়ে এসেছেন তেজোদীপ্ত মনোবল নিয়ে। ইলমে দ্বীনের প্রচার-প্রসার, ইসলামি তাহযিব-তমদ্দুন এবং ইসলামি রাজনীতির বিকাশে এটিই আমাদের সংগ্রামী চেতনার বাতিঘর।

হেরার জ্যোতি বিকিরণে, ইমানি চেতনার জাগরণে, ইসলামি আন্দোলন-সংগ্রামে আকাবিরে দেওবন্দের অসামান্য কোরবানির নজির ইতিহাসের অবিস্মরণীয় এক অধ্যায়। আকবির তথা পূর্বসূরিদের সংগ্রামী অবদানের ধারাবাহিকতায় ইসলামি শিক্ষা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশ, ইমান-আমলের চর্চা, ইসলামি আন্দোলন-সংগ্রামের ধারা অব্যাহত রাখা, ইমানদার দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি, স্বাধিকার ও ঐতিহ্য চেতনাকে উজ্জীবিত করতে ‘তারিখে দারুল দেওবন্দ’ এবং ‘তাহরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ’ আমাদের চেতনার দীপ্তি, প্রেরণার মশাল।

এমতাবস্থায় নতুন প্রজন্মকে আজাদি আন্দোলন তথা মূল স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ইলমে নববীর আলোকরশ্মি ছড়িয়ে দেওয়াসহ ইসলাম, উম্মাহ ও দেশের প্রকৃত কল্যাণে ওলামায়ে দেওবন্দের ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে অবগত করতে এবং এ পথে অনুপ্রাণিত করতে ‘তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ’ এবং ‘তাহরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ’ তথা দেওবন্দ আন্দোলন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অবদান সম্পর্কে পড়ানো অনিবার্য।

দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখেই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতির দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এ দাবির বাস্তবায়নও হয়েছে। তবে স্বীকৃতির সুবাদে কোনোভাবেই যেন আমাদের মূল চেতনা ও অস্তিত্বে কোনো মহলই আঘাত হানতে না পারে সেই ব্যাপারে সব সময় সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই সঙ্গে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করাও সময়ের দাবি।