প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে খোলা হয়েছে ‘কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার’। ফলে খুব দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি।” গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা কমান্ড সেন্টারের যাত্রা হয়েছে। রাজধানীর হেয়ার রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কমান্ড সেন্টারটি পরিচালিত হবে। সেন্টারটির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী-পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ড, আর্মড ফোর্স ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যুক্ত থাকবেন।
শফিকুল আলম বলেন, রাজধানীসহ দেশের কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কমান্ড সেন্টার থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর কার্যক্রমে (কোন বাহিনী কী কাজ করছে) সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেন।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’বিষয়ক এক সভা হয়। ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব সভার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
দেশের অর্থনীতি খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির সব সূচক ইতিবাচক। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, রমজান মাসে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে না। মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছরে ৯ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হবে।
শফিকুল আলম বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের মতো। আমদানির প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি একসময় ১২ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাবে সেটি আবার ৯ শতাংশে এসেছে। সুদের হার উচ্চ করা হয়েছিল, বিশ্বে এটাই স্বীকৃতি পদ্ধতি যে, সুদের হারকে উচ্চ করে মূল্যস্ফীতি কমানো। আমরা দেখেছি, এটি কাজ করছে, কাজ করার কারণে মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, জুলাইয়ের মধ্যে এটা সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে আসবে।’
অর্থ উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাক্রো-ইকোনমি স্থিতিশীলতা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। তার মানে আমরা বলতে পারি, ম্যাক্রো-ইকোনমিক্যালি আমরা একটি স্থিতিশীল জায়গায় এসেছি। আমাদের রিজার্ভ এখন ২০ বিলিয়ন ডলার, সেটা এখন সাড়ে তিন মাসের আমদানি খরচ পূরণ করতে পারে। রিজার্ভের অবস্থা সামনে আরও ভালো হবে।’
প্রেস সচিব বলেন, মিটিংয়ে প্রধান উপদেষ্টা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অটোনমি নিশ্চিত করতে বলেছেন। যারা ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপের সব সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। নগদের বিরুদ্ধেও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব টাকা পাচার হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২ জন অর্থ পাচারকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খাদ্যশস্যের দাম কমার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রেস সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম কমছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। তিনি জানান, বাংলাদেশে কোরিয়ান ইপিজেড নির্মাণের জন্য জমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের হাতে জমির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার কোরিয়ান ইপিজেডের জমি দখল করার অপচেষ্টা করেছিল, যার ফলে কোরিয়ার অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশ থেকে সরে গিয়ে ভিয়েতনামে চলে গিয়েছিল। এখন সব সংকট সমাধান হওয়ায় বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ আসবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সম্পর্কে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে শফিকুল বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে ভর্তকি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে চলতি বছরে প্রায় ১১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কূপ খনন করে দৈনিক ৬৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে তা বৃদ্ধি করে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।