বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন আছে। পলিথিন ব্যবহার সীমিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টাও আছে। এরপরও প্রতিদিন দেশে প্রায় তিন হাজার কারখানায় দেড় কোটির কাছাকাছি পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হয়। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো পলিথিন ও প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যবহার করছে। ফলে প্লাস্টিক দূষণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার ইতিমধ্যে দেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে পলিথিন ব্যবহার ‘বন্ধ’ করতে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়। হাট-বাজার থেকে শুরু করে পলিথিন কারখানায় চালানো হচ্ছে অভিযান। সুপার শপে পলিথিনের ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, হাট-বাজারসহ মাঠে-ঘাটে ব্যবহৃত হচ্ছে আগের মতোই।
গত বছর ১ অক্টোবর থেকে সুপার শপে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। হাতে এক মাস সময় নিয়ে গত ১ নভেম্বর দেশব্যাপী সব ধরনের হাট-বাজার এবং দোকানগুলোয় নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এর আগে কয়েক দফায় পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয় স্টেকহোল্ডারদের। ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে পলিথিনবিরোধী অভিযানও চালানো হয় বাজার-কারখানায়। তবে অভিযানের পরও পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। বড় মার্কেট, হাট-বাজারসহ অলিগলিতে মিলছে পলিথিন। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, বিকল্প না থাকায় পলিথিন ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পলিথিন ব্যবহার বন্ধে চেষ্টার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৩ নভেম্বর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন বিক্রি, সরবরাহ ও বাজারজাত করার দায়ে ৩০৭টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় ৬০১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। এ সময় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৬২ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ১১টি পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সিলগালা করে দেওয়া হয়।
শুরুর দিকে আইনের কড়াকড়ি থাকলেও ধীরে ধীরে আইনের কঠোরতা শিথিল হতে থাকে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাপটের সঙ্গে বাজারে ফিরে আসে পলিথিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিনের বিকল্প ও সহজলভ্য পণ্য বাজারে আনতে না পারলে এর উৎপাদন বা ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। আর এ ধরনের অভিযানের আগে মাস্টারপ্ল্যান করে মাঠে নামতে হবে। না হলে পলিথিন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মুহা. শওকত আলী বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য, যেকোনোভাবেই হোক পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আমরা আসলে দুভাবে কাজ করছি। একটি সচেতনতা, অন্যটি মোবাইল কোর্ট। তা সারা দেশেই চলছে। সঙ্গে আমরা সাপ্লাই চেইনটাও বন্ধ করার চেষ্টা করছি। ঢাকা থেকে বিভিন্ন জায়গায় পলিথিন যায়, এ রকম বেশ কিছু ট্রাক আটকানো হয়েছে। কারখানাও বন্ধ করেছিলাম। দ্রুতই এই অভিযান আবার শুরু হবে।’
বাজারগুলোয় এখন পলিথিন বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় সুপার শপে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। বড় বড় মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।
ঢাকার বড় বড় বাজারে নিয়মিতই মনিটরিং হচ্ছে।’
উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও পুরান ঢাকার অলিগলিতে দাপটের সঙ্গে চলছে শত শত পলিথিন কারখানা। দেবীদাসঘাট লেন, গণি মিয়ার হাট ও লাড়কিপট্টি এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পলিথিনের উৎপাদন এবং সাপ্লাই কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলিথিন কারখানা চালু রাখতে এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেটও। এসব সিন্ডিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে কারখানাগুলো চালু রেখেছেন। অভিযান পরিচালনার সময় সমঝোতায় কাজ না হলে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর চকবাজারে নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় দপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) মো. শওকত আলী গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা জব্দ করা মেশিন ও মালভর্তি ট্রাক ভাঙচুর করে সব নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরান ঢাকার এক পলিথিন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকাগুলোয় প্রায় বাড়িতেই পলিথিনের কারখানা রয়েছে। এগুলো গোপন কিছু না। এখানে যারা পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তারা অনেক শক্তিশালী। বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাই অনেক সময় নামমাত্র অভিযান করে চলে যায়।
এদিকে ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় বেশিরভাগ দোকানেই পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে। হাতভর্তি পলিথিনের ব্যাগে করে বাজার নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। মুদি দোকান থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, শাকসবজি, ডিম, তরকারি ও ফলের দোকান সবখানেই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত সোমবার কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে পলিথিন বিক্রি করছিলেন আওলাদ নামের এক তরুণ। পলিথিন বিক্রি নিষিদ্ধ জানেন কি না প্রশ্ন করা হলে, তিনি মাথা নেড়ে না বলেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আওলাদ জানান, মার্কেটের পাইকারদের কাছ থেকে পলিথিন সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রি করেন তিনি।
কিচেন মার্কেটের পলিথিন বিক্রেতা মনির আলম বলেন, ‘পলিথিন নিষিদ্ধ, এটা আমরা সবাই জানি। নিষিদ্ধ করলে তো আর হবে না। আমাদের বেশিরভাগ ক্রেতা যারা মাছ ব্যবসা করেন। পলিথিন ছাড়া তো আর মাছ বিক্রি করা যায় না। বাধ্য হয়ে লুকিয়ে হলেও আমাদের বিক্রি করতে হয়।’
কিচেন মার্কেটের পাশে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সব দোকানি সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহার করছেন। ইমাম হোসেন নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা কোনো কাস্টমারকে জোর করে পলিথিন দিতে চাই না। অনেকেই বাজারের ব্যাগ আনেন না। আমরা যদি পলিথিন না দিই দেখা যাবে কাস্টমার অন্য দোকান থেকে নেবেন। তাই পলিথিন রাখি।’
মামুনুর রশিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আইন করে নিষিদ্ধ করলেই তো হবে না, বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পলিথিনের বিকল্প আনার কথা শুনেছি। কিন্তু বাজারে কোনো পাটের ব্যাগ নেই। হয় প্লাস্টিকের বস্তার ব্যাগ অথবা পলিথিন। আবার সুপার শপে যেসব ব্যাগ পাওয়া যায়, এরও অনেক দাম। বাধ্য হয়েই নিচ্ছি।’
পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ২০০২ সালে সংশোধনী এনে পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। আইন না মানলে বলছে, পলিথিন সামগ্রী উৎপাদনের জন্য অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (জরিমানা) বা উভয় দণ্ড এবং আমদানি ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি অপরাধের জন্য দুই বছর, অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা, অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (জরিমানা) বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন ব্যবহারের জন্য অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার কারখানায় প্লাস্টিক ও পলিথিন তৈরি হয়। এসব কারখানা সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। কারখানাগুলোয় দিনে কয়েক কোটি পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি পলিথিন ব্যাগ জমা হয়।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘তিনটি ধাপে পলিথিন আমাদের ক্ষতি করে। প্রথমত, পলিথিন ব্যবহার করার পর ছুড়ে ফেলে দিই, এটি সাধারণত মাটিতে যায় এবং মাটিকে দূষিত করে। দ্বিতীয়ত, আমাদের জলাবদ্ধতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে ড্রেনগুলো ব্লক করে দিয়ে এবং তৃতীয়ত, এটি যখন মূল বর্জ্যরে সঙ্গে মিশে থাকে, তখন সেই বর্জ্যগুলো কম্পোস্টজাতীয় কোনো কাজে লাগাতে পারি না। এ ছাড়া এই পলিথিনকে পুড়িয়ে দেওয়ার ফলে এটার যে গ্যাসীয় কম্পোনেন্ট তৈরি হয়, তখন এটি বাতাসকে বিষাক্ত করে তোলে। এটি যখন পানিতে মিশে যায়, তখন এটি পানির গুণগত মানকে নষ্ট করে। এটা হলো আমাদের পরিবেশগত সমস্যা। এ ছাড়া পলিথিন মানব দেহের জন্যও ক্ষতিকর। এটি খাদ্যের মধ্য দিয়েও শরীরে প্রবেশ করে। এতে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলিথিন আমাদের জীবনে এখন অপরিহার্য জিনিসে পরিণত হয়েছে। এটার ব্যবহার যদি কমিয়ে আনতে চাই। তাহলে প্রথমত যেটি দরকার, যে জায়গাগুলোয় ব্যবহার কমিয়ে আনতে চাই, সেই পণ্যগুলোর বিকল্প আমাদের জোগান থাকতে হবে আগে। মানুষ এটি সস্তা পায়। এটির পরিবহনও সহজ ও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ পলিথিন ব্যবহার করে থাকে। পলিথিনের বিকল্প তৈরি করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে এটি সহজলভ্য ও সহজে পরিবহনযোগ্য এবং ভেজাজাতীয় পণ্য মোড়কজাত করার ক্ষেত্রে উপযোগী কি না। আমরা যদি এভাবে একটা বিকল্প তৈরি করতে পারি, তাহলে একে ফেজ আউট করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এখানে ব্যতিক্রম কিছু লক্ষ করিনি। আগেও বাজারেই শুধু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, এবারও তাই হয়েছে। কিন্তু এটার আমদানি বা সাপ্লাই চেইনটা রয়েছে অর্থাৎ উৎপাদন লেভেলে যে কর্মযজ্ঞ চলে, সে ক্ষেত্রে ইন্টারভেনশনটা ২২ বছর আগে যেটা দেখছি, এখনো তাই দেখছি। ফলে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো টেকসই বা দৃশ্যমান উন্নতি তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই পলিথিন বন্ধে এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ সরকারও ফেল করবে এটা আগেই বলেছি। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ অনেক বড় কাজ। অনেক বড় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তুতির ঘাটতি দেখেছি। এই ফেল আমাদের জন্য আরও ক্ষতি হলো। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই হুট করে তারা একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। ডিপার্টমেন্টের সেই সক্ষমতা আছে কি না? আমাদের বাজারে বিকল্প আছে কি না? আমার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের কতটুকু সহযোগিতা করবে, সেই হিসাবনিকাশ করা। এসব কারণেই মূলত সরকার এবারও ফেল করেছে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘পলিথিন চিরতরে বাজার থেকে উঠিয়ে দিতে হলে তার বিকল্প বাজারে আনতে হবে। প্রতিদিন ঢাকা শহরে আড়াই কোটি পলিথিন লাগে। আমরা বারবার করে বলেছি এটা মহতী উদ্যোগ। এটা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন থাকবে, পাশাপাশি বিকল্পটা যদি বাজারে জোগান দিতে না পারি, মানুষের নাগালের সীমায় না আনতে পারি, যতই উদ্যোগ নিই না কেন, কোনো সুফল হবে না। কারণ এটার তো চাহিদা রয়েছে বাজারে। বিকল্প চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পাটপণ্যের কথা বলছি। আমরা চাই পাটপণ্যটা তাড়াতাড়ি বাজারে আসুক। কিন্তু পাটের দাম দেড় গুণ বেশি। যে পাটের ব্যাগ ২০ টাকা ছিল, এটা এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক একটা মানুষ বাজারে যাচ্ছে, সে ফ্রি ফ্রি পলিথিন পাচ্ছে। কেন সে ৪০ টাকা দামের ব্যাগটা কিনবে। কারণ সেই মানসিকতা এখন গড়ে ওঠেনি। আবার যারা ব্যবসায়ী, তারা অল্প টাকায় বেশি মুনাফা করে এই পলিথিনের একটা বড় স্টেকহোল্ডার গড়ে তুলেছেন, তারা একটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। ফলে সরকার যখন অভিযানে যায়, তখন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এই শক্তিশালী গ্রুপকে কেউ দমাতে পারেনি। সরকারকে একদিকে যেমন তার সর্বশক্তি দিয়ে আইনের প্রয়োগ করতে হবে, তেমনি সহজলভ্য পলিথিনের বিকল্প বাজারে নিয়ে আসতে হবে।’