পুলিশের বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার মামলার আবেদন 

থানায় নির্যাতন এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মামুন আলী ওরফে কিং আলী। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের তৃতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এই আবেদন করেন তিনি।

এতে  আসামি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজি মামলার বাদী, নগরের পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি),  দুজন উপ-পরিদর্শকসহ ৮ জনকে। আদালত আবেদন গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, পাহাড়তলী থানার ওসি বাবুল আজাদ, উপপরিদর্শক মানিক ঘোষ, বন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. আসাদুল হক, কিশোর মজুমদার, খাতুনগঞ্জের এস এস ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক আরিফ মঈনুদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমান এবং সুপারভাইজার দিদার হোসেন।

বাদীর আইনজীবী আশরাফুর রহমান জানান, থানায় নির্যাতন, চাঁদা দাবি এবং মালামাল লুটের অভিযোগ এনে কিং আলীর করা মামলার আবেদনে নগরের পাহাড়তলী থানার ওসি, তিনজন এসআইসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তপূর্বক ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানার ওসি বাবুল আজাদ বলেন, ‘কিং আলী একাধিক মামলার আসামি। গত বছর পাহাড়তলী এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করতে যাওয়ার পর আমরা তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করি। ক্ষোভের কারণে তিনি মামলা করে থাকতে পারেন।’

গত বছরের ১৬ অক্টোবর পাহাড়তলীর দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় মোহাম্মদ ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতা মামুন আলী ওরফে কিং আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ চাঁদাবাজি করতে যাওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আরিফ মঈনুদ্দীন একটি মামলা করেন। তাকেও কিং আলী মামলায় আসামি করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছিল, কিং আলী গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তত দেড়শ ছেলে নিয়ে যায় ঘটনাস্থলে। তার বাহিনী তখন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শোডাউন দেয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর কিং আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করে মহানগর বিএনপি।