দুদিন ধরে বন্ধ সিইপিজেডের ‘প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস’

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে দুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম ইপিজেডে অবস্থিত ‘প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস লিমিটেড’। এর ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির চার হাজার শ্রমিক। তবে সিইপিজেড কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মালিকপক্ষ আশ^স্ত করেছে।

সিইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস লিমিটেড। কারখানাটির দুটি ইউনিটে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত রবিবার সকালে শ্রমিকদের একটি অংশ কাজে যোগ না দিয়ে সকালের নাশতা ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় আরও কিছু শ্রমিক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে বেলা ২টার দিকে কর্তৃপক্ষ নোটিস দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার স্বাক্ষরিত নোটিসে ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, শ্রমিকরা অবৈধভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং অযৌক্তিক দাবি তুলেছেন। এর ফলে কর্তৃপক্ষ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। গত সোমবার কারখানার সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে সিইপিজেড কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কারখানা খোলার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ^াস দিলে শ্রমিকরা ফিরে যান। গতকাল মঙ্গলবারও কারখানা বন্ধ ছিল। এরপরও কিছু শ্রমিককে ইপিজেড অফিসের সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিক ইমাম হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, এক মাস আগেও শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলেছিল। ওই সময় আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হয়েছে। এর এক মাসের মাথায় হঠাৎ করে আবারও নতুন দাবি নিয়ে আন্দোলন করাকে অধিকাংশ শ্রমিকই ভালোভাবে নেননি। তাই কারখানা বন্ধ ঘোষণায় সবাই উদ্বিগ্ন।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তারা আজকালের মধ্যে কারখানা খুলে দেবে বলে আমাদের জানিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানার জন্য প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালসের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমিরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (বেপজিয়া) পরিচালক জিন্নাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও বেপজিয়া বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠান মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। মালিকপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। শ্রমিকরাও কাজে ফিরতে চান। আশা করছি, দু-এক দিনের মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।