সাবেক এমপির স্বপ্নপুরীতে অভিযান, ৪৮ বন্যপ্রাণী উদ্ধার

দিনাজপুর-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও তার চাচা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের পরিচালিত স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানকালে ৪৮টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় স্বপ্নপুরীর মিনি চিড়িয়াখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা অভিযান শুরু করে। যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। 

অভিযানকালে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্য, দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্রগ্রাম ও রাজশাহীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জানা গেছে, দিনাজপুর-৬ আসনের (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও তার চাচা দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৯৮৯ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকায় বিশাল জায়গাজুড়ে স্বপ্নপুরী নামক একটি পিকনিক স্পট চালু করেন। পিকনিক স্পটটি চালুর পর থেকেই নানাভাবে বিতর্কের মুখে পড়ে চাচা ও ভাতিজা। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসীদের বসবাসের জায়গা, কবরস্থান ও বন বিভাগের জায়গা দখল করে পিকনিক স্পটটি গড়ে উঠে। পাশাপাশি পিকনিক স্পটের ভেতরে অবৈধভাবে পশু সংরক্ষণ করে মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলেন। আর সেই মিনি চিড়িয়াখানায় টিকিটের বিনিময়ে দর্শনাথীদের প্রবেশ করতে হয়। 

চাচা ও ভাতিজা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হওয়ায় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক এমপি শিবলী সাদিক দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর থেকে স্বপ্নপুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নবাবগঞ্জ প্রশাসন ও বন বিভাগ তোরজোড় শুরু করেছে। 

টানা দ্বিতীয় বারের মতো মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে ৫টি ভাল্লুক, ৫টি মায়া হরিণ, ১১টি বানর, ১৭টি সাম্বার হরিণ, ৫টি রাজধনেশ, ২টি সজারু, ১টি ভোদর উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পার্কটিতে প্রথম বারের মতো অভিযান পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সে সময় ৭৪টি বন্যপ্রাণী জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২২টি প্রাণীকে বিভিন্ন সরকারি চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। আর অবশিষ্ট ৫২টি বন্যপ্রাণী স্বপ্নপুরী কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়। কিন্তু স্বপ্নপুরী কর্তৃপক্ষ সে সকল প্রাণীর পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এই অভিযান পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। 

বন্যপ্রাণী জব্দের বিষয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও জেলা বন বিভাগের কোন কর্মকর্তা কথা বলে রাজি হননি। 

তবে অভিযানে থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অনুমোদনহীনভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোকে যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য গাজীপুর ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হস্তান্তর করা হবে। স্বপ্নপুরী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বন অধিদপ্তর সকল অবৈধ মিনি চিড়িয়াখানা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, কোথাও যদি বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আটকে রাখার তথ্য থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।