পরপর দুই টেস্ট সিরিজে হারের ক্ষত ভুলে সাদা বলের ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর একদিনের সিরিজেও ইংল্যান্ডকে পাত্তা না দিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল রোহিত শর্মার দল। আহমদাবাদে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১৪২ রানের বড় জয় তুলে নিল ভারত। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে নামবে তারা। শুবমন গিল ও শ্রেয়াস আইয়ারের দুর্দান্ত ব্যাটিং, হার্সিত রানার বল হাতে পারফরম্যান্স— সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে শক্তির পরিচয় দিয়ে রাখল ভারতীয় দল।
তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ ম্যাচে কোনো ছাড় দেয়নি ভারত। রোহিত শর্মা (১) দ্রুত ফিরে গেলেও শুবমন গিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের শাসন করেছেন। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এটি তার অন্যতম পছন্দের উইকেট। আইপিএলে তিনটি শতরানের পর এবার একদিনের আন্তর্জাতিকেও এখানে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১০২ বলে ১১২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন শুবমন।
মিডল অর্ডারে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই সিরিজেও ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। আহমদাবাদে ৬৪ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন। বিশ্বকাপের পর থেকে তার ব্যাটে যে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, তা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতের বড় শক্তি হতে চলেছে।
বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলও রান পেয়েছেন। কোহলি ৫৫ বলে ৫২ ও রাহুল ২৯ বলে ৪০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষদিকে কেউ বড় রান না পেলেও ভারত ৩৫৬ রানের লড়াকু স্কোর তোলে।
৩৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথমদিকে কিছুটা ঝড় তুললেও ধীরে ধীরে পথ হারায় ইংল্যান্ড। হার্সিত রানার গতির সামনে ইংলিশ ব্যাটারদের পরিকল্পনাই এলোমেলো হয়ে যায়। ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই তরুণ পেসার।
প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া আর্শদীপ সিংও এদিন দুর্দান্ত বল করেছেন। ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে তিনিও নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। স্পিনারদের মধ্যে অক্ষর প্যাটেল (২২ রানে ২ উইকেট) ও কুলদীপ যাদব (১ উইকেট) ভালো করেছেন। ভারতের সব বোলারই উইকেট পেয়েছেন, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ৩৪.২ ওভারে ২১৪ রানে। সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করল ভারত। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাল তারা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এমন পারফরম্যান্স দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। দুবাইয়ের মঞ্চে এবার ভারতীয় দলের লক্ষ্য আরও বড় কিছু!