কাবরেরায় আস্থা তাবিথের

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:২৮ পিএম

তিনি প্রথা বিরুদ্ধ নন। সারা দুনিয়ার প্রচলিত সংস্কৃতিকে ভাঙার পক্ষেও নন। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কথা। চার মাস আগে ফুটবল প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়া এই সংগঠক প্রথা মেনে আস্থা রেখেছেন জাতীয় পুরুষ দলের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরার ওপর।

আগামী মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে কাবরেরা প্রাথমিক দলে রেখেছেন ৩৮ ফুটবলার। কাবরেরার দল নির্বাচন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

বহুদিন খেলার বাইরে থাকা জামাল ভুঁইয়ার সুযোগ পাওয়া যেমন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, আবার নাবিব নেওয়াজ জীবনের মতো পারফরমারের ডাক না পাওয়া নিয়েও হচ্ছে সমালোচনা। বাফুফের প্রধান তাবিথ আউয়াল একই সঙ্গে জাতীয় দল কমিটির দায়িত্বও রেখেছেন নিজের কাছে। স্বভাবতই জানতে চাওয়া হয়েছিল কাবরেরার দল নিয়ে।

তাবিথের সাফ জবাব, দলে কে থাকবে, না থাকবে সে সিদ্ধান্তের ভার হেড কোচের। এখানে জাতীয় দল কমিটির কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি বলেছেন, ভারত ম্যাচের আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় লেগের প্রথম রাউন্ড শেষেই চূড়ান্ত হবে দল।

২০২২ সালে প্রথম দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বছর জাতীয় দল নিয়ে কাজ করেছেন কাবরেরা। ২০২৩ সালটা ভালো কাটলেও শুরু ও শেষের বছর মোটেই ভালো কাটেনি জাতীয় দলের। ২০২৪ সালে তার অধীনে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স মোটেই আশা জাগানিয়া ছিল না। তারপরও তাবিথ নেতৃত্বাধীন কমিটি কাবরেরাকে আরও ১৬ মাসের জন্য রেখে দিয়েছে। চলতি বছর এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব ছাড়াও জাতীয় দল খেলবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তাই এই বছরটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। ভালো না করেও টিকে যাওয়া কাবরেরার জন্যও এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

অথচ এই চ্যালেঞ্জ উতরাতে গিয়ে তার তালগোল পাকিয়ে ফেলার দশা। নইলে জামাল ভুঁইয়ার মতো খেলার বাইরে থাকা খেলোয়াড়কে কেন রাখবেন ক্যাম্পে। এছাড়া বেশ ক'জন বেঞ্চ গরম করা ফুটবলারকেও রেখেছেন তিনি। অথচ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ফেডারেশন কাপে আট গোল করার পরও জাতীয় দলের ফেরার সুযোগ পাননি অভিজ্ঞ নাবিব নেওয়াজ জীবন। মানিক মোল্লা, মাহাদী ইউসুফ খানের মতো পারফরমাররাও ধরা পড়েনি কাবরেরার রাডারে।

ভার্চুয়ালি দল ঘোষণার পর মাত্র দুই মিনিটের একটি ভিডিওবার্তার মধ্য দিয়ে কাবরেরা দিয়েছেন প্রাথমিক দল নিয়ে তার ব্যাখ্যা। সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। বাফুফের নিয়ম মেনে তার কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় দল গঠনের পরদিন। অথচ কাবরেরা দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাব দেননি। তাই বাধ্য হয়েই এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেছিলেন বাফুফে সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির প্রধানের সঙ্গে।

তাবিথ অবশ্য জবাব দিয়েছেন পেশাদারি ঢংয়ে, 'জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় নির্বাচনের পুরো দায়িত্বটা হেড কোচের। কোনো প্রশাসনিক প্রয়োজনে শুধু মাত্র জাতীয় দল কমিটির সঙ্গে কোচ চাইলে আলোচনা করতে পারে। আমরা পরের পর্ব (লিগের পরের রাউন্ড যেটা এ মাসেই হওয়ার কথা) পর্যন্ত অপেক্ষা করবো তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য।'

জামালদের নেওয়া, জীবনদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানানোর পরও তাবিথ আস্থা রাখতে চাইছেন কোচের সিদ্ধান্তের ওপর, 'আপনি যে সব খেলোয়াড়ের কথা বলছেন, তাদের লিগের পারফরম্যান্স সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন। তারা (যাদের ডাকা হয়নি) সবাই ৫০ জনের প্রথম তালিকায় ছিলেন। তবে ৩৮জনের তালিকায় তাদেরই রাখা হয়েছে, যারা কোচের দর্শনের সঙ্গে মানিয়ে গেছেন।'

এদিকে ভালো পারফর্ম করেও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ায় ভীষণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন রহমতগঞ্জের স্ট্রাইকার জীবন। বুঝে গেছেন এই কোচ যতদিন আছেন, ততদিন আর তার সামনে খুলবে না জাতীয় দলের দরজা। তাই এই কোচের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি তিনি। কাবরেরাকে সিন্ডিকেট কোচ তকমাও দিয়েছেন একসময় জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলা জীবন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত