ছোট ছোট বদভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে তার পরিবর্তে ছোট ছোট ভালো কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেই জীবন বদলে যায়। এমন ছোট ছোট কয়েকটি কাজ, যেগুলো অভ্যাসে পরিণত করলে বদলে যাবে আপনার জীবন সেগুলো নিয়ে লিখেছেন লিজা হক
বিছানা গোছানো : ঘুম থেকে উঠেই বিছানাটি গুছিয়ে ফেলুন। দিনের প্রথম কাজটিই সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারলে মনে ছড়িয়ে পড়বে ইতিবাচকতা ও আত্মবিশ্বাস, যা সারা দিন আপনাকে প্রফুল্ল রাখবে।
পানি পান করুন : এরপর কোনো কাজ করার আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। এর ফলে দেহের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে। একে বলা হয় অন্তর্গত স্নান। স্নান বা গোসল করলে যেমন আমরা সজীবতা অনুভব করি ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করলে দেহের অভ্যন্তরেও তেমন সজীবতা অনুভব করবেন।
অল্প সময়ের জন্য দড়ি লাফ খেলুন : খুব অল্প সময় সেটি দুই মিনিট বা পাঁচ মিনিটও হতে পারে, দড়ি লাফ খেলুন। এর ফলে মাংসপেশির জড়তা কাটবে, মানসিকভাবে চাঙা হয়ে উঠবেন।
দিনের আলোয় বের হন : ঘর থেকে বের হয়ে সূর্যালোক গায়ে লাগান। যদি ঘরে বাইরে বের হয়ে মুক্ত হাওয়ায় দড়ি লাফ খেলেন তাহলে এক কাজে দুই কাজ হয়ে যাবে। সময়ও বাঁচবে।
নিজের লক্ষ্যকে স্মরণ করুন : জীবনে সফলতা পেতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা জরুরি। তবে অনেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা পুনঃপুন স্মরণ করি না। ফলে দৈনন্দিন কাজের চাপে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি। সে জন্য লক্ষ্যকে স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কাজের জন্য সকালের থেকে ভালো সময় আর কী হতে পারে? গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ১৪ ভাগ মানুষের লক্ষ্য থাকে আর তাদের সফলতার পরিমাণ সাধারণ মানুষ, যাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই তাদের সফলতার দশগুণ বেশি। আবার লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা ব্যক্তিদের মাত্র শতকরা তিনজন তাদের লক্ষ্যের কথা কাগজে লেখেন, তাদের সফলতার পরিমাণ নির্দিষ্ট লক্ষ্যধারী কিন্তু কাগজে লেখেন না, এমন ব্যক্তিদের তিনগুণেরও বেশি। তাই লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সেই লক্ষ্যকে লিখে স্মরণ করুন।
অল্প হলেও পড়–ন : প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়ার অভ্যাস করুন। সেটা হতে পারে একটি অনুচ্ছেদ, একটি পাতা কিংবা একটি অধ্যায়।
গাছে পানি দিন : কীভাবে কোনো কিছুর যতœ লালন-পালন করতে হয় তা শেখার জন্য বাসায় রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট। নিয়মিত গাছে পানি দিন। পালতে পারেন কোনো একটি প্রাণীও। এই অভ্যাস আপনাকে আরও মানবিক করে তুলবে।
ঈষৎ ঠা-া পানিতে স্নান করুন : অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। এটি ঠিক নয়। দেহ তাপমাত্রা থেকে ঈষৎ ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করার অভ্যাস করুন। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
যোগাযোগ করুন : সকালটা শুরু হতে পারে অন্যকে ‘সুপ্রভাত’ বার্তা পাঠিয়ে। খুব প্রিয়জন বা পরিবারের সদস্য বা যার সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন যাচ্ছে তাকে পাঠাতে পারেন ‘সুপ্রভাত’ বার্তা। হয়তো তার দিনটিই অন্যরকম হয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে কারও বিরক্তির উদ্রেক যেন না করেন।
কাজের সময় ফোন নয় : একাগ্রচিত্তে কোনো কাজ করতে চাইলে ফোনটিকে এয়ারপ্লেন মোডে নিয়ে যান। কাজ শেষ হলে নোটিফিকেশন দেখে যোগাযোগ করুন যারা খোঁজ করেছিল।
খাওয়ার আগে পানি পান করুন : খাওয়ার আগে পানি পান করুন। তবে খেতে বসেই পানি পান না করা ভালো। খাওয়ার আধাঘণ্টা আগে পানি পান করা স্বাস্থ্যসম্মত। এর ফলে অতিভোজন থেকে মুক্তি পাবেন।
তিন-তিন-তিন এর রুটিন : নিজের কাজগুলো কার্যকরীভাবে করতে আপনি অনুসরণ করতে পারেন তিন-তিন-তিন রুটিন। অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তিন ঘণ্টা নির্ধারণ করুন, তিনটি তুলনামূলক সহজ কাজ করুন, তিনটি রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজ করুন। এই রুটিন অনুসরণ করলে আপনার জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকবে।
স্বাস্থ্যকর খাবার গুছিয়ে রাখুন : ক্ষুধার্ত অবস্থায় যেন অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বাধ্য না হন সে জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার গুছিয়ে রাখুন।
নির্দিষ্ট কিছু কাজের মাধ্যমে কর্মঘণ্টা শেষ করুন : ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে না পারার অন্যতম কারণ হলো, ব্যক্তিগত সময়েও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা। সুস্পষ্ট সীমানা টানার জন্য কিছু নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে কর্মঘণ্টার ইতি টানুন। যেমন কাজের টেবিলটি গোছান, কম্পিউটার বন্ধ করুন এবং বলুন ‘আজকের মতো শেষ হলো’।
দিনটি নিয়ে লিখুন : ঘুমানোর আগে যে দিনটি যাপন করলেন সেটি নিয়ে লিখুন। সব লেখার দরকার নেই। আনন্দপূর্ণ একটি ঘটনা বা দিনের এমন ভুল যেটি আর করতে চান না সেটি নিয়ে লিখুন, সংক্ষিপ্ত আকারেই। কিন্তু লিখুন। এটি আপনাকে প্রতিদিন অপেক্ষাকৃত ভালো হয়ে উঠতে প্রেরণা জোগাবে।
আগামী দিনের পরার পোশাক গুছিয়ে রাখুন : আগামী দিন কেমন কাটবে তা নির্ধারণ করে আপনার আজকের প্রস্তুতি। তাই আগামীকাল কোন পোশাক পরবেন তা ঠিক করে রাখুন ঘুমাতে যাওয়ার আগেই।