৫ আগস্টের পর ২০২৫ সালের এই ডিসি সম্মেলন সব দিক থেকেই বিশেষ। আর বিশেষ রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবারের সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জোরদারের বিষয় প্রাধান্য পাবে। ডিসি সম্মেলন নিয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। সচিব জানান, এবারের প্রধান প্রধান বিষয়ের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জোরদারের ব্যবস্থা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির বাস্তবায়ন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ পরিষেবার উন্নয়ন, পরিবার সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে সচিবালয়ে ডিসি সম্মেলনের প্রস্তুতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, সম্মেলনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা প্রায় শেষ করে আনতে পেরেছি। তিন দিনের এ সম্মেলন শুরু হচ্ছে, যাতে ৩০টি ‘সাধারণ’ অধিবেশন এবং চারটি ‘বিশেষ’ অধিবেশন’ থাকবে। চারটি ‘বিশেষ’ অধিবেশনের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মুক্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা।
তিনি বলেন, মূল অনুষ্ঠান হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সুপ্রিম কোর্টে হবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ। রেওয়াজ থাকলেও এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডিসিদের সাক্ষাৎ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সময় মেলাতে না পারায় এ বছর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোনো অধিবেশন থাকছে না।
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যা আয় হয়, তা কীভাবে ব্যয় হয় জানা যায় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। তার হিসাব রাখার প্রস্তাব করেছেন একজন জেলা প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বডি ক্যামেরা রাখা, মারণাস্ত্র ও ছররা গুলি না রাখার প্রস্তাব আছে। সার্কিট হাউজে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি থাকলে কেপিআই হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব আছে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম দূর করতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একজনকে রাখার প্রস্তাব আছে।
এবারের সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখা হবে বলেও জানান তিনি। ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর আগের সরকারের দর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্নজনের নামে সড়ক, সেতুর মতো অবকাঠামোগতসহ কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ বছর ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাজেট আছে। কিছু কম হবে বলে আশা করি।
ডিসি সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিষয়, উন্নয়ন কর্মসূচি ও অন্যান্য প্রাধিকার সম্পর্কে নির্দেশনা গ্রহণ এবং কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাঠানো মাঠপর্যায়ে জনস্বার্থ সম্পৃক্ত প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সচিবালয়ের পাশে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট অধিবেশন ৩৪টি কার্য-অধিবেশন ৩০টি। এর মধ্যে একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সদয় নির্দেশনা গ্রহণ; এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা দুটি (প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মুক্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশ আডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা)।
অংশগ্রহণকারী কার্যালয় একটি (প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়); অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার সংখ্যা ৫৬টি। অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের উপদেষ্টা/বিশেষ সহকারী/সিনিয়র সচিব/সচিবরা। কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ২৪৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৫৪টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ হ্রাস করা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ২৮টি প্রস্তাব এসেছে।