মাটি কাটার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে রাতের আঁধারে ফসলি জমিতে অবৈধ মাটি কাটার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করায় মোস্তাফিজুর রহমান রিপন (৪০) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত ১২টার দিকে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

গুরুতর আহত অবস্থায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিপনকে ঢাকার আলী আজগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার চরকুন্দলিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাই ইকবাল মাদবর (৪৮) ও জহির মাদববের (৪৫) নেতৃত্বে একটি চক্র রামকৃষ্ণদি গ্রাম ও আশপাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। শনিবার রাতেও রামকৃষ্ণদি গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছিল। এতে স্থানীয়দের অনুরোধে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিপন সেখানে ছুটে যায়। এ সময় তিনি ওই চক্রের মাটি কাটার দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করতে থাকে। একপর্যায়ে তা দেখে ফেললে মাটি কাটার চক্রের লোকজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে এলোপাতাড়ি পোটায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত স্বেচ্ছাসেবক নেতাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠান। 

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জহির মাদবর সাংবাদিকদের বলেন, রামকৃষ্ণদি গ্রামে আমি ও আমার ভাই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। শনিবার রাতে রিপনের ওপরে যে হামলা হয়েছে তার সাথেও আমরা জড়িত না। আমি খুলনা থেকে এখন বাড়িতে ফিরছি। মারামারির বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজদীখান সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আ. ন. ম ইমরান খান জানান, ওই গ্রামে অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে আসছিল। ওই রাতে একটি চক্র মাটি কাটতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ ছুটে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় স্বেচ্চাসেবক দলের এক নেতাকে উদ্ধার করেন তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।