স্বর্ণ চোরাচালান রোধে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘এটা দেশের মানুষের জন্য, কারও জন্য ভালো না। তাহলে এই খারাপ কাজটা আমরা কেন কন্টিনিউ করছি। আর যদি বলেন এটা করছি না, তাহলে এগুলো আসে কোথা থেকে। আমরা ১০০টির মধ্যে একটি ধরতে পারি। ৯৯টি আমরা ধরতে পারি না। নানা কারণে। এজন্য আমরা সমস্যাগুলো শুনতে চাই।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমস্যাগুলো কী আমাদের জানান। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমস্যাগুলো যেনে, সমস্যা দূর করতে চাই। এত এত স্বর্ণ বাজারে অথচ স্বর্ণ আমদানি নেই কেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।’ এটার জবাবটা আমি খুঁজতে চাই। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে সাড়ে ১৭ কেজি জব্দ করা হয়েছে সিলেটে। এটা একদিকে বেআইনি কাজ, এর জন্য বড় বড় শাস্তি আছে। আবার এই চোরাচালানকে কেন্দ্র করে প্রচুর খুনখারাবি হয়। তথ্য আদান-প্রদান হয়ে যায়। সর্বশেষ বড় একটা সেনসেশনাল, মাল্টিন্যাশনাল কিলিং দেখেছি। যার বডি সুদ্ধ পাওয়া যায়নি। বলা হয়, উনি এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
স্বর্ণ আমদানি কম হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, যাত্রীরা যারা বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনেন, তাদের ব্যাগেজ রুলসের আওতায় কর দিতে হয়। কিন্তু যারা আমদানি করেন তাদের ক্ষেত্রে কর অনেক কম। তারপরও আমাদের স্বর্ণ আমদানি হয় না কেন? দেশে এত এত জুয়েলারি, এসবে স্বর্ণ আসছে, বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু আমদানির কোনো রেকর্ড নেই। আমদানির রেকর্ড খুবই সামান্য। অথচ আমদানি অ্যালাউ করা হয়েছে, আমদানি নীতিমালা আছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়া সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বাজুসের জেনারেল সেক্রেটারি বাদল চন্দ্র রয়, সহসভাপতি রিপনুল হাসান ও মাসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাদল চন্দ্র রয় বলেন, ‘আমরা আমদানির লাইসেন্স পেয়েছি আজ চার বছর হয়েছে, দুই বছর আর্থিক কারণে আমদানি করতে পারিনি। এনবিআরের উচিত এর ওপর করহার কমানো।’