ডিসি বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দেবে বলে জানান নির্বাচন কমিশন ইসি সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আমরা একটা উত্তম নির্বাচন করতে চাচ্ছি। ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকে আমরা সেই মেসেজটি দেওয়ার চেষ্টা করব। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ডিসি সম্মেলনে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমাদের জন্য একটি নির্ধারিত সেশন রয়েছে। কমিশনের সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হয়, নির্দেশনাও থাকে। আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আমরা যাব। নির্বাচনের পার্ট অ্যান্ড পার্সেল হচ্ছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে ডিসিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। এবার যেহেতু নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ করার জন্য কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার বিকল্প নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, এই প্রশাসনকে নিয়েই হয়েছে। যেহেতু সরকারের পক্ষ কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব থাকবে না, সেহেতু আমরা আশাবাদী সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন হবে। কারণ আমাদের সামনে ভালো উদাহরণও রয়েছে, খারাপ উদাহরণও রয়েছে। কমিশন বিশ্বাস করে খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি হবে না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে হবে।
ডিসিদের দলীয় মানসিকতার বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের কাজে সহায়তা করার জন্য সবাই বাধ্য। যখন তফসিল হবে এবং ইসি যখন মনে করবে যেখানে যে নিরপেক্ষ ডিসিকে পদায়ন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে কমিশন কঠোরভাবে অটল থাকবে।
সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ইসি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। বর্তমান যে আইন, সেটা কিছু পরিবর্তন না হলে যেমন আছে তেমনই থাকবে। আর আইন পরিবর্তন হলে মানুষের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী হবে। আমরা আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছি। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। বর্তমান আইনে পুনর্বিন্যাস করার সুযোগ নেই। এই সংশোধন হলেই হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার সুবিধা, উন্নয়ন কর্মের সুবিধা, জনসংখ্যার বিষয়, ভৌগোলিক অবস্থা ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়ে মানুষের চাহিদার বিষয়টিও দেখতে হবে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে যা যথোপযুক্ত হবে, সেটাই হবে। এজন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ না হলেও যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি করব।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে এখনো বলার সময় আসেনি। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে, মানে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। সময়ই আমাদের গাইড করবে।