স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করা নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে বরগুনায় স্ত্রী আসমা আক্তার পুতুলকে (৩০) কুপিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী আবুল কালাম (৪০)।
গতকাল রবিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গৃহবধূ আসমা আক্তার ও আবুল কালাম কলেজ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের গ্যাস সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেলের ব্যবসা করতেন আবুল কালাম। চলতি বছরের শুরুর দিকে তারা কলেজ রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। এই বাসায় থাকাকালীন সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই টাকা পয়সা নিয়ে কলহ লেগে থাকতো। তবে কখন কিভাবে আজ স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সে বিষয়টি কেউই বলতে পারেনি।
তবে নিহতের বড় মেয়ে রাকা জানিয়েছে, স্বর্ণের রুলি বানানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই তর্কাতর্কি চলে আসছিল তার বাবা-মায়ের মধ্যে। আজ দুপুরের পর তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ঘুম পাড়িয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করতে পারেন।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘আনুমানিক রাত ৮টার দিকে বরগুনা সদর থানায় গিয়ে আবুল কালাম স্ত্রীকে হত্যার কথা বলেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ তার ভাড়া বাসায় গিয়ে লাশ উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাশ ময়নাতদেন্তর জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে আবুল কালাম এখনো কিছুই জানাননি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’