মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে ঘাতক যুবকও মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা একে একে সবাই মারা যান। 

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। সে রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। 

এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে থাকা রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকে। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক যুবক অন্তরকে গণপিটুনি দেয়। 

অন্যদিকে আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।

ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে তিনিও মারা যান। এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছুঁড়লে সাত জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারো সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই। 

বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসে। এরপর তিনি ঘটনাটি ঘটায়। 

রাণী নামে এক প্রতিবেশি অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়, তখন অন্তর বলে সে পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছে। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কি কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তিনিও মারা যায়। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে তিনিও মারা যান।

সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের সাত সদস্য আহত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত