ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো ‘এআই অ্যাকশন সামিট ২০২৫’, যেখানে বিশ্বনেতা, প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও শীর্ষ নির্বাহীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এআই ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, নৈতিকতা এবং বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা। ফ্রান্স সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্টের সহযোগিতায় আয়োজিত সম্মেলনটি এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি সচিব পিটার কাইল এবং শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। ব্যবসা ও অর্থনীতিতে এআইয়ের ভূমিকা। ডিজিটাল নীতিমালার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এআই গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ১০৯ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বিলিয়ন কানাডার ব্রুকফিল্ডের বিনিয়োগ। ৫০ বিলিয়ন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্ভাব্য বিনিয়োগ। ১.২ বিলিয়ন অ্যামাজনের ক্লাউড অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।
এ ছাড়া ফ্রান্স সরকার এআই গবেষণা এবং উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ফ্রান্সের ডিজিটাল মন্ত্রী জানান, ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সকে এআই গবেষণায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্যারিসে অবস্থিত স্টেশন এফ বিশ্বের বৃহত্তম স্টার্টআপ ক্যাম্পাস, এটি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ফরাসি স্টার্টআপ ‘মিস্ট্রাল এআই’, যেটি এনভিডিয়ার সঙ্গে কাজ করছে, তারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় সুপারকম্পিউটার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইউরোপে এআইয়ের জন্য সহজতর নীতিমালার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই, যেখানে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হবে না, বরং নিরাপদ ও কার্যকর এআই উন্নয়ন সম্ভব হবে।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি সচিব পিটার কাইল বলেন, ‘পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্বে এআই প্রযুক্তির বিকাশ হওয়া উচিত, যাতে এটি সবার জন্য নিরাপদ ও ন্যায়সংগত হয়।’ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে। তবে, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।