আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এবং তিস্তা অববাহিকার জনপদের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি পয়েন্টে টানা দুদিনের অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তার সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচির অবসান ঘটে। তারেক রহমান তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বন্ধুত্ব চাইলে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘তিস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ দেখা যায়। যার নেতৃত্ব দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল লালমনিরহাটে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে পদযাত্রা শেষে তিস্তার হাঁটু পানিতে নেমে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন হাজার হাজার মানুষ।
এর আগে, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলুর নেতৃত্বে তিস্তা রেলসেতু-সংলগ্ন মঞ্চ থেকে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি রংপরের কাউনিয়া উপজেলার কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে ফের তিস্তা রেলসেতু-সংলগ্ন মঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে বিশ্ববাসীকে তিস্তা নদীর পানির গভীরতা দেখাতে হাঁটু পানিতে নেমে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন হাজারো মানুষ।
গত সোমবার দুপুর থেকে ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি পালনে দূরদূরান্ত থেকে নদীপাড়ে আসেন হাজার হাজার মানুষ। সেখানে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা সভা, নাটক এবং লোকজ গান পরিবেশন শেষে বালুচরে বিছানা পেতে রাত পার করেন তারা। নিজেরাই চাল-ডাল সংগ্রহ করে রান্না করে দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন।
তিস্তার বাংলাদেশ অংশের ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থানের ১১টি পয়েন্টের অনুষ্ঠানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়ে কর্মসূচি স্থলেই সোমবার রাত পার করেন। সভামঞ্চে প্যান্ডেল, সমাবেশ ও বিনোদনের জন্য মঞ্চ তৈরি, পর্যাপ্ত আলো ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করেন আয়োজকরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তিস্তাপাড়ের ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সবার জীবনের গল্প প্রায় একই রকম। তারা জানান, নদীভাঙনে নিজেদের সব আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছর বাড়িঘর সরাতে হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সব জমিতে আবাদ হবে। আগে তারা অনেকবার এমন মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিগত সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। এটি রংপুরবাসীর আন্দোলন। ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি বাস্তবায়নে শীত উপেক্ষা করে তিস্তার চরে হাজার হাজার মানুষ রাতযাপন করেছেন। তাদের সবার দাবি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক। তিস্তার করাল গ্রাস থেকে এ অঞ্চলের মানুষ মুক্তি পাক।’
বন্ধুত্ব চাইলে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে : প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের জনগণকে মনে রাখেনি, শুধু স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ মনে করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে অন্যায্য চুক্তি আছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে আর অন্যায্যতা দেখতে চায় না, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ আর দেখতে চায় না।’ গতকাল তিস্তা নদীপাড়ের পাঁচটি জেলার ১১টি পয়েন্টের অবস্থান কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগস্টে খুনি স্বৈরাচারী দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এ স্বৈরাচার একদিন একটি কথা বলেছিল, “ভারতকে যা দিয়েছি তা তারা (ভারত) সারা জীবন মনে রাখবে”। তাই এই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত শুধু স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে, বাংলার মানুষকে মনে রাখেনি। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে কিছু দেয়নি, শুধু দিয়েছে স্বৈরাচারকে। প্রতিটি দেশেরই তাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বা ঝামেলা থাকে। কিন্তু সেগুলোকে কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা হয়। যেটা আমাদের এখানে এতদিন হয়নি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ যদি আমাদের তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়, তাহলে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। আমাদেরটা আমাদেরই চিন্তা করতে হবে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তিস্তার ন্যায্য পানি আদায়ের জন্য আজকে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ পানি বণ্টন নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ অপ্রতিবেশীমূলক আচরণ করছে। ৫০ বছর ধরে ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়নি। এখন আবার এসেছে তিস্তার অভিশাপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের অপ্রতিবেশীমূলক আচরণের কারণে আজকে তিস্তাপাড়ের লাখ মানুষ বন্যায় এবং খরা নিয়ে জীবনযাপন করছে। এর ফলে লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তার পানির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখবে বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পাশাপাশি দেশের অন্য যেসব নদী আছে, সেগুলোকে আমাদের পুনরায় সংস্কার এবং খনন করতে হবে। শহীদ জিয়ার সেই খাল খানন কর্মসূচি আমাদের পুনরায় হাতে নিতে হবে।’
স্বৈরাচার সরকার গত ১৫ বছর নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে এমনটা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের কোনো হটকারী সিদ্ধান্তে বা আমাদের অসতর্কতায় যেন খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের কেউ পুনর্বাসন হওয়ার সুযোগ না পায়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
দুদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষ যে আন্দোলন করছে, তা বৃথা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিস্তাকে রক্ষা করতে হলে তিস্তাবাসীকে একটি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর সেটি হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনাদের পছন্দের দলে ভোট দিতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তিস্তা নদীর সঙ্গে রয়েছে দেশের উত্তরের ২৫টি নদীর প্রবাহ। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা এ পাঁচ জেলার বুক চিরে প্রতি বছরই ডেকে আনছে বন্যা ও খরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিস্তা নদীর বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্জীবনে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু হয়নি পানি চুক্তি বা চূড়ান্ত হয়নি তিস্তা মহাপরিকল্পনা। যে কারণে প্রতি বছর বন্যায় সাধারণ মানুষের ক্ষতি ও ফসল নষ্ট হয়। এখন আন্দোলনই শেষ ভরসা তিস্তাপাড়ের মানুষের।
তিস্তা ব্যারাজের উজানের টেপাখড়িবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল উদ্দিন শেখ (৮২) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিস্তা এখন যে পথে চলছে এটি তার পথ ছিল না। নদী প্রবাহিত হতো ডালিয়া বাজার দিয়ে। তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের সময় ডালিয়া থেকে নদীটি দোয়ানীর দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন থেকে তিস্তা আমাদের মতো অনেক পরিবারের নিজস্ব ফসলি জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা হতে থাকলাম ক্ষতিগ্রস্ত। এখন পানি কমে যাওয়ায় সেই জমির চরে ফসল আবাদ করা হয়।’ বয়োবৃদ্ধ মফিজুল উদ্দিন শেখের মতো তিস্তাপাড়ের শত শত বাসিন্দার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একই চিত্র।
ডালিয়া চরের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘প্রতি বছর সময়-অসময়ের বন্যায় তিস্তা নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। উজানের পলিতে ভরাট হয়েছে নদীর বুক। ফলে বর্ষায় ভারতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে তিস্তায় বন্যা দেখা দিচ্ছে। ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। অনেক স্থানে হেঁটে নদী পারাপার হন স্থানীয়রা।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রতি বছর বন্যায় দুই কোটি টনের বেশি পলি আনছে বাংলাদেশ অংশের তিস্তায়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীন ২০১৬ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নকশা প্রণয়ন করেছে। ৮ কিলোমিটার প্রস্থ তিস্তা নদীকে দেড় কিলোমিটার করা হবে। নদীর দুই ধারে প্রশস্ত রাস্তা, গাইড বাঁধ, স্যাটেলাইট শহর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাউজিং ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান হবে। রংপুরের মানুষ আশাবাদী ছিল এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা তার যৌবন ফিরে পাবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবে নদীপাড়ের মানুষের জীবন রক্ষার প্রকল্প। কিন্তু সেই প্রকল্প পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়ন করেনি।’
পানির অভাবে ১৫ লাখ টন চাল কম উৎপাদন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘পানির অভাবে বাংলাদেশে ১৫ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হচ্ছে। ১৫ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হলে এ দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকত। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি আন্তর্জাতিকভাবে ন্যায়নীতির ন্যায্য দাবি। পানি বণ্টনের ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনতে হবে।’ গতকাল বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই এলাকায় তিস্তা অববাহিকায় তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পানি যতদিন না আসবে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষের জনসমর্থন ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিএনপি এটার সমাধানকল্পে আন্দোলন শুরু করেছে। এটার ধারাবাহিকতা থাকবে।’
ভারত বেইমানি করেছে বলে অভিযোগ গয়েশ্বরের : গতকাল বেলা ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় জমায়েত হয়। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভাটির দেশ নদীর পানির মালিক। ভারতের আগ্রাসনে তিস্তা এখন আর নদী নেই, খাল বলা যায়।’
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বেইমানি করেছে অভিযোগ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘ভারতের মদদে বিনা ভোটে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। বিদেশেও টাকা পাচার করেছে। ভারতের কাছ থেকে ক্ষমতা নিলেও পানি নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।’
তিস্তা অববাহিকায় মশাল প্রজ্বালন : ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ তিস্তা অববাহিকা জুড়ে মশাল প্রজ্বালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১টি পয়েন্টে একসঙ্গে কয়েক লাখ মানুষ এ মশাল প্রজ্বালন করেন।
এ সময় তারা ‘ভারতীয় পানি আগ্রাসন মানি না মানব না’, ‘পানির ন্যায্য হিস্যা-দিতে হবে দিতে হবে’, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করো-করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগানে তিস্তাপাড় মুখরিত করে তোলে। একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে তিস্তাকে শুকিয়ে মারার জন্য ভারতকে পানি আগ্রাসী দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা। কর্মসূচির শেষপর্যায়ে রাতে ১১টি পয়েন্টে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। আজ বুধবার ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি।
তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিরা