মোবাইল অপারেটরদের জন্য নতুন তরঙ্গ বরাদ্দ দেবে বিটিআরসি

চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) মোবাইল অপারেটরদের নতুন করে ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হবে। নিলামের মাধ্যমে এই তরঙ্গ বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।

নতুন এই তরঙ্গের মাধ্যমে গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা পাবেন। কল ড্রপ ও নেটওয়ার্কের জটিলতা কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী স্পেকট্রাম সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মুশফিকুর রহমান বলেন, রেডিও স্পেকট্রাম দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান সম্পদ, যার সঠিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্পেকট্রামের যথাযথ ব্যবহার একটি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফোকাল সংস্থা হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) সদস্য দেশগুলো এই সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে।                         

বিটিআরসির আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ভানুয়াতু, টোঙ্গো, লাওসসহ সংশ্লিষ্ট দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক রেগুলেটরি সংস্থার প্রধান, টেলিকম অপারেটর, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির মহাসচিব মাসানরি কোন্ডো বলেন, সিম্পোজিয়ামটি স্পেকট্রাম নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনায় জড়িত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নীতিনির্ধারক, টেলিকম নিয়ন্ত্রক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় স্পেকট্রাম কৌশল প্রণয়ন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও স্পেকট্রাম রোডম্যাপ তৈরিসহ ভবিষ্যৎ টেকনোলজি নিয়ে সিম্পোজিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসবে, যা সদস্য দেশগুলোর রেগুলেটরি ও পলিসি প্রণয়নে কার্যকর অবদান রাখবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘বিশ্ব জুড়ে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের স্পেকট্রামপ্রাপ্তি অপরিহার্য। এপিটি একটি বিস্তৃত স্পেকট্রাম রোডম্যাপ তৈরি করতে সদস্য দেশগুলো, ইন্ডাস্ট্রি ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যা কার্যকরভাবে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং মূল্যনীতি, স্পেকট্রাম রোডম্যাপ তৈরির কৌশল, একটি গ্রহণযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি এবং আঞ্চলিক সমন্বয়কে এগিয়ে নেওয়ার আমাদের প্রচেষ্টাকে সহজতর করবে।’

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং প্রবৃদ্ধির জন্য একটি স্থিতিশীল এবং দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নীতি অপরিহার্য উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অদক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নীতি পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিষেবার মান উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

তরঙ্গের খরচ কমানো হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এমদাদ উল বারী বলেন, ‘একেক দেশের চাহিদা এবং জোগান একেক ধরনের হয়। বাংলাদেশের তরঙ্গের খরচ স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দর নির্ধারণ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সিম্পোজিয়ামের উদ্দেশ্য হলো ২০২৩ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন-২০২৩-এর ফল, নতুন আইসিটি উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সহজতর করার জন্য স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনার নীতি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা এবং নতুন ধারণা বিনিময় করা। এ ছাড়া ডিজিটাল কানেকটিভিটি ও জাতীয় স্পেকট্রাম কৌশল, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ বাড়ানোর জন্য স্পেকট্রাম নীতি এবং প্রযুক্তিগত বিবেচনা, স্পেকট্রাম ব্যান্ডউইথের চাহিদা মেটানো, স্পেকট্রাম রোডম্যাপ তৈরি, ভবিষ্যৎ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনায় সেরা অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা।