মুরাদনগরে গৃহবধূ ডলি রানী দেবীকে (২৬) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পূর্বধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের হাটাশ গ্রামের উত্তর পাড়া বসন্ত নাথের বাড়ি স্বামী ঝন্টু দেবনাথের ঘর থেকে ডলি রানী দেবীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডলি রানী দেবী হাটাশ গ্রামের ঝন্টু দেবনাথের স্ত্রী।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ডলি রানী দেবীর পরিবারের পক্ষ থেকে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান।
নিহতের স্বজন ও থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা নবীনগর উপজেলা জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামের নাথ বাড়ির অবনী দেবনাথের মেয়ে ডলি রানী দেবী সঙ্গে বিয়ে হয় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা হাটাশ গ্রামের উত্তর পাড়া বসন্ত নাথের বাড়ী দুলাল দেব নাথের ছেলে ঝন্টু দেবনাথের। তাদের সংসারে ৬ বছর এক ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি ডলি রানী দেবী ও ঝন্টু দেব নাথের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলে আসছিল।
ডলি রানী দেবীর মা সন্ধ্যা রানী দেবী বলেন, ডলি প্রায়ই ফোন করে আমাকে বলতো তার স্বামী, দেবর, শশুর ও শাশুড়ী ছোটখাটো বিষয় নিয়েও গালাগালি করতো ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতো। আবার বলতো নির্যাতন সহ্য করে সংসার করতে পারলে করবি, না হয় গলায় ফাঁস দিয়ে বা বিষ খাইয়া মরবি। আমি আমার মেয়ে হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। স্বামী ঝন্টু দেবনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।