মাদারীপুরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তিনখণ্ড একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকার ইয়াকুব শেখের বাড়ি থেকে মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি ২টি আস্তা ও আরো একটি অর্ধেক মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে মূর্তি বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। উদ্ধারকৃত মূর্তিটির ওজন ১৮ কেজি ৮৮৮ গ্রাম।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য দুইদিন যাবত জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন করছেন ইয়াকুব শেখ। সেখানে গভীরে খননের সময় মাটি মাখা পাথর সাদৃশ্য জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। পরে উত্তোলন করে পানিতে ধুয়ে দেখা যায় পাথরের মূর্তি। এভাবে করে দুটি আস্তা ও একটি ভাঙাসহ মোট তিনটি মূর্তি পাওয়া গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ সময় মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি বুঝতে পেরে ইয়াকুব ও তার ছেলে আসলাম দ্রুত ঘরের ভেতরে লুকিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বিক্রির জন্য কুতুব উদ্দিন শেখ ও কবীর শেখ নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন ইয়াকুব ও তার ছেলে। রাতের আধারে সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নেন তারা। পরবর্তীতে টের পেয়ে মূর্তিটি দেখতে চায় স্থানীয় এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। এ সময় তাকে দেখতে না দেওয়ায় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেন ওই ব্যক্তি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ছুটে আসেন মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ। পরে মূর্তিগুলো ৩ খণ্ড ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে পুলিশ আসার খবরে পালিয়ে যান মূর্তি ক্রয় করতে চাওয়া কুতুব উদ্দিন শেখ ও কবির শেখ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমি মূর্তি পাওয়া গেছে শুনে দেখতে যাই। এ সময় আমার সাথে বিভিন্ন বাহানা করে মূর্তি দেখতে দিতে রাজি হয় না। তারা বলতে থাকে সামান্য একটা পাথরের মূর্তি। পরে আমার সন্দেহ হলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করেছি।
এ ব্যাপারে মূর্তি পাওয়া ইয়াকুব শেখ বলেন, ভ্যেকু দিয়ে পুকুর কাটতেছিলাম। আজকে শেষ হবে এমন সময় মাটির সাথে কালা পাথরের মতো একটা উইঠা আসে। পরে পানি দিয়া ধুইয়া দেখি মূর্তি। সেইটা নিয়া ঢেহি (রান্না) ঘরে ফেলাই রাখছিলাম। অনেক মানুষ মূর্তিটা দেখছে। ভিড়ের মধ্যে একজন দেখতে গেছিল তারে বলছিলাম ১০ মিনিট পর দেখাই। এজন্য সেই লোক পুলিশে খবর দিছে।
ইয়াকুব শেখের ছেলে আসলাম শেখ বলেন, প্রথমে লোহা মনে করে আমার হাতে দিছে। পরে আমি মুছে দেখি মূর্তির মতো দেখা যায়। আমরা মনে করছি এমনি কোন পাথরের মূর্তি। তাই ঢেহি (রান্না) ঘরে ফেলাই রাখছিলাম।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, তিন টুকরা একটা মূর্তি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তবে মূর্তিটা মূল্যবান কষ্টিপাথরের নাকি সাধারণ পাথরের তা নিশ্চিত হতে পারি নাই। মূর্তিটির ওজন আছে ১৮ কেজি ৮৮৮ গ্রাম।